বিদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী টানতে জাপানের নতুন উদ্যোগ
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- জাপানে উচ্চ দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ ও ধরে রাখতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটির শীর্ষ দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। চলতি…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ উত্তেজনা ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে চূড়ান্ত ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। তাঁর এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
কাৎজ দাবি করেন, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে “গুরুতরভাবে দুর্বল করে দেওয়া”, যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েলি বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের আক্রমণ বা প্রতিরক্ষামূলক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ভিত্তিতেই সব ধরনের সামরিক বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ঘিরে কঠোর মন্তব্য করেন, যাকে বিশ্লেষকেরা তেহরানের ওপর রাজনৈতিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত
পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি এবং ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তসহ সংবেদনশীল অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের এই অবস্থান ইরানকে কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে চাপের মধ্যে রাখার একটি কৌশল।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে জানান, সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনো ব্যবহার করা হয়নি।
তিনি বলেন, ইরান এখন উচ্চমাত্রার প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বজায় রেখেছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে এক হাজারেরও বেশি ধরনের অস্ত্র উৎপাদন করা হচ্ছে এবং দেশজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এই উৎপাদন ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখছে। তাঁর মতে, কোনো একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ হবে না।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ইরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যার মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী সামুদ্রিক অঞ্চলের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হয়।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা দেখিয়েছে এবং ইরান এখন সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন বিশেষ দূত জারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের পাকিস্তান সফরের কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা হবে না। প্রয়োজনীয় বার্তা পাকিস্তানের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হবে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন এবং পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au