যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দুজনেরই মৃত্যু। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ থাকার পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত এ তথ্য জানান।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার বোন আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।” পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণার পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় রাসায়নিক প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
এর আগে একই ঘটনায় নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি পুলিশ। লিমনও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তাঁদের দুজনেরই বয়স ছিল ২৭ বছর।
পুলিশ এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পায় নিজের বাসায় লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে নাহিদা বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে শেষবারের মতো দেখা যায়। এরপর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না পেয়ে তাঁদের এক বন্ধু পুলিশকে বিষয়টি জানালে পৃথকভাবে নিখোঁজের অভিযোগ নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে অভিযুক্ত রুমমেটের বাসা থেকে পারিবারিক সহিংসতার একটি ফোনকল পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং তাকে আটক করে।
ঘটনার বিষয়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা আগেই এক বার্তায় এটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
তবে বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, কোথা থেকে মরদেহ পাওয়া গেছে বা এ ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়া এবং পরে দুজনেরই মৃত্যুর খবর সামনে আসায় নিরাপত্তা ও তদন্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।