হাম ও উপসর্গে একদিনে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ
মেলবোর্ন, ২৬ এপ্রিল- দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ…
মেলবোর্ন, ২৬ এপ্রিল- ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশে বহুমাত্রিক আকারে দেখা দিচ্ছে, যার প্রভাবে তেল সরবরাহ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, দীর্ঘ যানবাহনের লাইন এবং অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
যদিও সরকার দাবি করছে, অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, বাস্তব চিত্রে সেই আশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির জন্য সরকার ‘প্যানিক বায়িং’ এবং অসাধু কালোবাজারি চক্রকে দায়ী করলেও বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, নীতিগত অসামঞ্জস্য ও বাস্তবায়নে দুর্বলতাই সংকটকে জটিল করে তুলছে।
জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, কিছু অসাধু চক্র একাধিক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
সংকটের প্রভাব জ্বালানি খাত ছাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিং বাড়ছে। অনেক এলাকায় টানা সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাস ও তেল সংকটে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সরকার যদিও বলছে, পর্যাপ্ত মজুত আছে, তবে ক্রেতাদের অনেকের অভিযোগ তারা চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না ,ছবি : সংগৃহীত
এই অবস্থায় কৃষিখাতও ঝুঁকিতে পড়েছে। বোরো মৌসুমে সেচের জন্য বিদ্যুৎ ও ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা জ্বালানি না পেয়ে উৎপাদনে বাধার মুখে পড়ছেন। এতে করে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাজারদরে।

জ্বালানি সংকটের কারণে সেচের পাম্প চালাতে সমস্যার অভিযোগ করছেন অনেক কৃষক ,ছবি : সংগৃহীত
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এ খাতে বাড়তি প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, এই পরিস্থিতিতে নতুন করে লাখো মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেছেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখার চেষ্টা করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, সংকট মোকাবিলায় সুস্পষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটিটি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করবে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর নীতি গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করবে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au