যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন ধাপের প্রস্তাব
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাব ইসলামাবাদ-এ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে…
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- চট্টগ্রামের জহুরুল হক বিমানঘাঁটি থেকে কর্মরত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এক ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা দুই মাস আগে নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান তাকে নিয়োগ করেছিল এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের খোঁজ পেয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজের রোববার প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। পরে তাকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের একটি আস্তানায় শনাক্ত করে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন, যার মাধ্যমে শুধু তার নিয়োগের বিষয়ই নয়, বরং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আরও কিছু সদস্যের সঙ্গে এই জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশকে অবহিত করলে বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ওই কর্মকর্তার তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর আগে থেকেই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন অন্তত আরও ছয়জন ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে তুরস্ক, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও পর্তুগালে পালিয়ে গেছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগেই ওই ওয়ারেন্ট কর্মকর্তাকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রলুব্ধ বা নিয়োগ করা হয়েছিল। পরে তিনি কোনো ছুটি না নিয়েই পাকিস্তানে চলে যান।
এদিকে, চট্টগ্রামের জহুরুল হক বিমানঘাঁটির প্রধান মসজিদের ইমাম আব্দুস শুকুরকে এই নিয়োগ কার্যক্রমের অন্যতম মূল ব্যক্তি হিসেবে সন্দেহ করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ছয় মাস আগে তাকে লক্ষ্য করে সংগঠনটির সদস্যরা যোগাযোগ স্থাপন করে। প্রায় দশ দিন আগে শুরু হওয়া অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে।

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে সতর্কতা, নজরদারি জোরদার। ছবিঃ সংগৃহীত
সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক এই অভিযানগুলোর পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারের উখিয়া এলাকায় জঙ্গি সংগঠনটির একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা চলছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান জোরদার করা হয়।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকার কুর্মিটোলা এলাকার এ কে খন্দকার বিমানঘাঁটি এবং যশোরের মতিউর রহমান ঘাঁটিতেও অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে অন্তত দুইজন স্কোয়াড্রন লিডারসহ প্রায় ১০ জন জুনিয়র কমিশন্ড কর্মকর্তা ও বিমানসেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও এক ডজনের মতো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কক্সবাজার ইউনিটে কর্মরত কয়েকজন বিমানসেনার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনটির যোগাযোগ থাকতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও যশোরে অবস্থিত ২৫তম ও ১৮তম স্কোয়াড্রনের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। যশোরের মতিউর রহমান ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা রাডারভিত্তিক আবহাওয়া ও নজরদারি সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
অন্যদিকে, পলাতক দুইজন বিমানসেনা ঢাকার কুর্মিটোলা ঘাঁটিতে এবং একজন চট্টগ্রামের বিমানসেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুরো ঘটনাটি ঘিরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au