গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- বরিশাল নগরীতে গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় রাশেদ খান মেনন (৫০) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ড…
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস) নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে এই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন জেলায় খোলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ব্যবহার করে গোপনে উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়ানো ও সদস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, শাহ আমানত সাবির নামে এক ব্যক্তি এই সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। তার নেতৃত্বে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যেখানে আফগানিস্তান ফেরত কিছু উগ্রপন্থীর সম্পৃক্ততার কথাও বলা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকার বসিলা এলাকায় বিদেশি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থে পরিচালিত একটি আবাসন প্রকল্পের আড়ালে এই নেটওয়ার্ক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)–এর জন্য সদস্য সংগ্রহ বা রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রম চালাচ্ছে।

শাহ আমানত সাবির নামে এক ব্যক্তি এই সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। তার নেতৃত্বে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
এছাড়া এই নেটওয়ার্ক তেহরিক-ই-তালেবান বাংলাদেশ (টিটিবি) নামে একটি আলাদা কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই দাবির স্বতন্ত্র কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
তথ্য অনুযায়ী, ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম বর্তমানে খুলনা, যশোর ও চাঁদপুর জেলায় এবং খুলনার সুতারখালী ও যশোরের অভয়নগর উপজেলায় মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করছে। স্থানীয় স্টেডিয়াম ও উন্মুক্ত স্থানে প্রকাশ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংগঠনটি নিজেদের আত্মরক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিলেও গোপনে ভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রগুলো বলছে, প্রশিক্ষণার্থীদের একটি অংশকে পরে গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে টিটিপি ও আল-কায়েদার মতো সংগঠনের মতাদর্শিক বার্তা ও উগ্র বক্তব্য শেয়ার করা হয়। ধীরে ধীরে এসব কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট কিছু সদস্যকে বাছাই করা হয়।
বাছাইকৃতদের পরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতির চর ইউনিয়নের মতো দূরবর্তী এলাকা ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। এরপর এসব তরুণকে আফগানিস্তানে পাঠিয়ে উগ্র সংগঠনের হয়ে কাজ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

মো. মাহফুজুর রহমান বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন এবং বাছাই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। ছবিঃ সংগৃহীত
এই সংগঠনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে মো. মাহফুজুর রহমানের নাম উঠে এসেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “বাংলাস্তানের জঙ্গি” নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন এবং বাছাই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন।
তদন্তে আরও বলা হচ্ছে, প্রচারণায় ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল নম্বর যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। এতে নেটওয়ার্কের কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত যে নামগুলো এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শাহ আমানত সাবির, মো. মাহফুজুর রহমান, মো. হেমায়েত হোসেন, মো. শাদাত, আবু সুফিয়ান এবং আবু ওসামা (ফয়সাল হাসান)।
এ বিষয়ে এখনো সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নেটওয়ার্কের কার্যক্রম, অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সংযোগ নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au