গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- বরিশাল নগরীতে গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় রাশেদ খান মেনন (৫০) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ড…
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আলোচিত আরেক শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং ও বীমা বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই অভিযোগে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
শুধু শিক্ষক নন, একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা শিশিরকেও সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রশাসন।
ভাইরাল শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি
সিন্ডিকেট সভায় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। পরে তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগ পর্যালোচনার পর বিভাগীয় সুপারিশ অনুযায়ী তাঁকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ডাকসুর সাবেক জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিলের সুপারিশ
সিন্ডিকেট সভায় ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় আসে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমফিল কর্মসূচিতে তাঁর ভর্তি যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে হয়নি বলে পূর্বে একাডেমিক কাউন্সিল যে সুপারিশ করেছিল, তার আলোকে তাঁর ছাত্রত্ব বাতিল এবং ডাকসুর জিএস পদ অবৈধ ঘোষণার বিষয়টি আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে একাডেমিক কাউন্সিল গোলাম রাব্বানীর এমফিল ভর্তি বাতিল এবং ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তাঁর জিএস পদ অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছিল।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাত এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের আগেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল।
সোমবারের সিন্ডিকেট সভায় ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুপারিশ দেবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না বলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au