যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন ধাপের প্রস্তাব
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাব ইসলামাবাদ-এ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে…
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সবাই এর আগে রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি ছিল। এর মধ্যে চারজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে র্যাব জানিয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) র্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বাস থেকে নামার পরই শুরু হয় ঘটনা
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বুলেট বৈরাগী ঢাকাগামী বাস থেকে নেমে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। র্যাব জানিয়েছে, ওই অটোরিকশায় আগে থেকেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা অবস্থান করছিল।
এরপরই তাকে কৌশলে কুমিল্লার কোটবাড়ি হাড়াতলী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ওই এলাকার ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রথমে মরদেহের মাথার পেছনে আঘাত থাকায় বিষয়টি সড়ক দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে তদন্তে দেখা যায়, তিনি মূল রুট থেকে সরে প্রায় চার কিলোমিটার দূরের এলাকায় পৌঁছান, যা সন্দেহের জন্ম দেয়।
পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তারা জানান, এই অস্বাভাবিক গতিবিধি এবং মোবাইল ফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে পরে ধারণা করা হয়, তিনি ছিনতাই চক্রের কবলে পড়েছিলেন।
র্যাব-১১ সিপিসির অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। তবে ধীরে ধীরে প্রযুক্তিগত ও মানবিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যাচ্ছে।

বুলেট বৈরাগীর রহস্যজনক মৃত্যু , ছবি : সংগৃহীত
মোবাইল ফোনই দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঘটনার পর ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সচল ছিল। ফোনটি সর্বশেষ রাত আড়াইটার দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে ছিল। এরপর থেকে তার অবস্থান অজানা হয়ে যায়।
এই মোবাইল ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল ডেটা বিশ্লেষণই তদন্তে বড় অগ্রগতি এনে দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনই আগে রেলওয়ে ডাকাতি মামলায় অভিযুক্ত ছিল। এদের মধ্যে চারজন সরাসরি বুলেট বৈরাগী হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তবে পুরো ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মরদেহের ময়নাতদন্ত গতকাল সকালে সম্পন্ন করা হয়। এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কুমিল্লা পৌরপার্ক এলাকায় কাস্টমস অফিসে মরদেহ নেওয়া হলে কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানান। এরপর দুপুরে মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। রাতে নিজ গ্রামের বাড়ি ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাবুপাড়া এলাকায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
র্যাব জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাই চক্রের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও পুরো নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au