অবশেষে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু, প্রথম দিন গেলেন ৮৩৬ পর্যটক
অবশেষে সব অনুমোদন জটিলতা কাটিয়ে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ৮৩৬ পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যায়…
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের সহায়তায় গঠিত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠার এক বছর আট মাস না যেতেই সংস্থাটি এখন নিজেদের কর্মীদের মাসিক বেতন পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হলেও প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় না পাওয়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ সালের ১০ আগস্ট যাত্রা শুরু করা এই ফাউন্ডেশনটি গঠিত হয় গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণে। অন্তর্বর্তী সরকার ৮৩৪টি শহীদ পরিবার এবং ১৪ হাজারের বেশি আহতকে সহায়তার জন্য মোট ৩৩৭ কোটি টাকার তহবিল নির্ধারণ করেছিল। তবে শুরুতে মাত্র ১০০ কোটি টাকা পাওয়া গেলেও এরপর আর কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। ফলে নির্ধারিত তহবিলের বাকি ২৩৭ কোটি টাকা না পাওয়ায় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামাল আকবর জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের পর আর কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তহবিল ছাড়ের জন্য অন্তত ১৫ বার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ, চিঠিপত্র ও সরাসরি সাক্ষাৎ করা হয়েছে, কিন্তু তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তার ভাষায়, “সরকারের কাছে আমাদের ২৩৭ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ পেলে আমরা নির্ধারিত সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারতাম।”
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৮ হাজারের বেশি আহত ব্যক্তি কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা পাননি। চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠছে।
এদিকে শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোর মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। শহীদ তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান বলেন, সরকার যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে শহীদ মো. সোহেলের বোন নুপুর আক্তার বলেন, পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা পেলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারতেন।
চলমান সংকট মোকাবিলায় একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ফাউন্ডেশন। তারা দেশের সংসদ সদস্যদের কাছে এক মাসের বেতন অনুদান হিসেবে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অন্তত সাময়িকভাবে কার্যক্রম চালু রাখা যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত অর্থ ছাড় না হলে শুধু ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমই নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au