সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাজনীতিবিদ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকদের ওপরও নেমে আসে নির্মম…
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে আসন্ন উপনির্বাচন ও পরবর্তী রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক জরিপে ভোটারদের পছন্দ, রাজনৈতিক বিভাজন এবং নেতৃত্ব নিয়ে আস্থার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এই জরিপ বলছে, নির্বাচনের মাত্র সাত মাস আগে ভিক্টোরিয়ার রাজনীতি কার্যত চারভাগে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে, যা আগামী নির্বাচনে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জরিপের তথ্য বলছে, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন ধরে রেখে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে। এর পরেই রয়েছে ওয়ান নেশন, তাদের সমর্থন ২৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে, আর লিবারেল-ন্যাশনাল জোট পেয়েছে ২৪ শতাংশ সমর্থন, যা আগের তুলনায় বেড়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্মিলিত সমর্থন দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশে। এর মধ্যে গ্রিনস ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ, অন্যান্য ছোট দল ৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন। ২০২৬ সালের ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত একটি বিশেষ জরিপে ১ হাজার ৭০৭ জন ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে এই চিত্র উঠে এসেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনই নির্বাচন হলে ভিক্টোরিয়ায় ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অনেক আসনের ফল অনিশ্চিত থাকায় সরকার গঠন জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভোটারদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের ভোট এ বছরের নির্বাচনে নির্ধারক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিন দলভিত্তিক পছন্দের হিসাবে লেবার পার্টি বেশ এগিয়ে রয়েছে। এই হিসাবে তারা পেয়েছে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন। লিবারেল-ন্যাশনাল জোট রয়েছে ২৮ শতাংশে এবং ওয়ান নেশন ২৭ দশমিক ৫ শতাংশে। অর্থাৎ ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের পছন্দ যুক্ত হলে লেবারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।
দুই দলভিত্তিক হিসাবেও লেবার পার্টি অল্প ব্যবধানে এগিয়ে। লেবার বনাম লিবারেল-ন্যাশনাল জোটের ক্ষেত্রে লেবার পেয়েছে ৫১ শতাংশ, আর জোট পেয়েছে ৪৯ শতাংশ। একইভাবে লেবার বনাম ওয়ান নেশনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লেবার ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ওয়ান নেশন ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। তবে লিবারেল-ন্যাশনাল জোট ও ওয়ান নেশনের সরাসরি লড়াইয়ে জোট অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে, সেখানে তাদের সমর্থন ৫৯ শতাংশ, ওয়ান নেশনের ৪১ শতাংশ।
পূর্ব ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে নেপিয়ান আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে প্রাথমিক সমর্থনে ওয়ান নেশন ৩৬ শতাংশ নিয়ে এগিয়ে আছে। লিবারেল-ন্যাশনাল জোট পেয়েছে ২৮ শতাংশ এবং লেবার পার্টি ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে দুই দলের পছন্দের হিসাবে জোট সামান্য এগিয়ে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশে, যেখানে ওয়ান নেশন রয়েছে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নেপিয়ান আসনে খুব কাছাকাছি লড়াই হতে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই উপনির্বাচনে লেবার পার্টি কোনো প্রার্থী দিচ্ছে না।
নেতৃত্বের প্রশ্নে বিরোধীদলীয় নেতা জেস উইলসনকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী জাসিন্তা অ্যালানের তুলনায় এগিয়ে মনে করছেন ভোটারদের বড় অংশ। জরিপে ৫৩ শতাংশ ভোটার উইলসনকে ‘ভালো প্রিমিয়ার’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, যেখানে অ্যালান পেয়েছেন ৪২ শতাংশ সমর্থন।বাকি ৫ শতাংশ কোনো মত দেননি বা অন্য কাউকে বেছে নিয়েছেন। নারী-পুরুষ, বিভিন্ন বয়সের ভোটার এবং শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলে উইলসন তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছেন। তবে লেবার, গ্রিনস এবং স্বতন্ত্র সমর্থকদের মধ্যে অ্যালানকেই বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করা হচ্ছে।
প্রমিয়ার হিসেবে জাসিন্তা অ্যালানের পারফরম্যান্স নিয়ে ভোটারদের বড় অংশ অসন্তুষ্ট। প্রায় ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার তার কাজের ধরনকে নাকচ করেছেন, বিপরীতে মাত্র ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা জেস উইলসনের পারফরম্যান্স নিয়ে ভোটাররা প্রায় সমানভাবে বিভক্ত। তার কাজের প্রতি ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার সন্তুষ্ট, ঠিক একই শতাংশ অসন্তুষ্ট, আর ৩ শতাংশ কোনো মত দেননি।
জেস উইলসনের নেতৃত্বে সম্ভাব্য লিবারেল-ন্যাশনাল জোট সরকার নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বেশ কিছু উদ্বেগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো পরিষ্কার নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অভাব। প্রায় ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, জোটের ভিশন স্পষ্ট নয়। ৩৫ শতাংশ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বিভাজন, অস্থিরতা, সেবা খাতে বাজেট কমানোর আশঙ্কা এবং ব্যবসাকেন্দ্রিক নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সামাজিক নীতি, সংখ্যালঘু অধিকার এবং অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানের আশঙ্কাও উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে জাসিন্তা অ্যালানের নেতৃত্বে পুনর্নির্বাচিত লেবার সরকারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ রাজ্যের ঋণ, বাজেট ঘাটতি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে, যা ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতার মধ্যে উঠে এসেছে। দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ৫৫ শতাংশের মধ্যে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, করের চাপ, অবকাঠামো খাতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং জনসেবামূলক খাতে চাপ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।
সার্বিকভাবে এই জরিপে দেখা যাচ্ছে, ভিক্টোরিয়ার ভোটাররা এখনো বিভক্ত এবং কোনো একক রাজনৈতিক শক্তির প্রতি পূর্ণ আস্থা তৈরি হয়নি। নেতৃত্ব, অর্থনীতি, জনসেবা এবং সামাজিক নীতির প্রশ্নে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা থাকায় আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
সূত্রঃ ROY Morgan
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au