বাংলাদেশের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
বন্যা। ফাইল ছবি মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল- দেশজুড়ে টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশের পাঁচটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও…
মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ায় দুই পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ডেজি ফ্রিম্যানের ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস থেকে শত শত শিশু নির্যাতনের ফাইল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফ্রিম্যানের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর দিনই এসব ডিভাইস জব্দ করার উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। পরে সেই ডিভাইসগুলো বিশ্লেষণ করে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর তথ্য পাওয়া যায়।
৫৬ বছর বয়সী ফ্রিম্যান প্রায় সাত মাস ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে একটি শিপিং কন্টেইনারে আত্মগোপন করে থাকার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর এখন তদন্তকারীরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, পালিয়ে থাকার সময় কে বা কারা তাকে সহায়তা করেছিল।
তদন্তে জানা যায়, ফ্রিম্যানের গোপন ডিভাইসে থাকা শিশু নির্যাতনের উপাদান উন্মোচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ঠিক সেই সময়, যখন তিনি পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে দুই কর্মকর্তাকে হত্যা করেন। গত বছরের আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভিক্টোরিয়া রাজ্যের পোরেপাঙ্কাহ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সেখানে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে একটি জীর্ণ বাসে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার দিন পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায় একটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করতে, যার লক্ষ্য ছিল তাঁর ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো জব্দ করা। এই অভিযান ছিল ওয়াঙ্গারাট্টা এলাকার যৌন অপরাধ ও শিশু নির্যাতন তদন্ত দলের একটি চলমান তদন্তের অংশ। তবে অভিযানটি ভয়াবহ মোড় নেয়, যখন ফ্রিম্যান হঠাৎ পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং আরেকজন আহত হন। এরপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় ধরেই আত্মগোপনে থাকেন।
পরে তদন্তকারীরা তাঁর ডিভাইসগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে শত শত শিশু নির্যাতনের ফাইল উদ্ধার করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই তদন্তে অতীতের যৌন অপরাধ এবং যৌন উন্মুক্ততার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল। একটি অভিযোগের শিকার ব্যক্তির সঙ্গে তদন্তকারীরা যোগাযোগও করেছেন বলে জানা গেছে। তবে ফ্রিম্যান নিহত হওয়ায় এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আর বিচার প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হবে না।
গত ৩০ মার্চ ভিক্টোরিয়া পুলিশের বিশেষ অপারেশন গ্রুপ ফ্রিম্যানকে থোলোগোলং এলাকার একটি শিপিং কন্টেইনারে ঘিরে ফেলে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর তিনি একটি কম্বল জড়িয়ে বেরিয়ে আসেন এবং নিহত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া একটি সার্ভিস পিস্তল হাতে নিয়ে পুলিশের দিকে তাক করলে তাকে একাধিক গুলিতে হত্যা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সাত মাসব্যাপী একটি নজিরবিহীন অভিযান শেষ হয়, যেখানে তার অবস্থান জানাতে ১০ লাখ ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।
ফ্রিম্যান অতীতে বিভিন্ন সময়ে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, প্রতিবেশীদের হয়রানি এবং কোভিড-১৯ বিধিনিষেধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে পুলিশের নজরে ছিলেন। তিনি নিজেকে তথাকথিত ‘সার্বভৌম নাগরিক’ হিসেবে দাবি করতেন এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও আইনকে স্বীকৃতি দিতেন না। পুলিশের প্রতি তার তীব্র ঘৃণার কথাও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, তিনি রাস্তার চেকপোস্টে থামা বা মাদক পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাতেন এবং ভুয়া আইনি কৌশল ব্যবহার করে এক বিচারককে গ্রেপ্তারের চেষ্টাও করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভাতা গ্রহণকারী ছিলেন এবং নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পেতেন।
ফ্রিম্যানের মৃত্যুর পর কিছু গোষ্ঠী তাকে ঘিরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়াতে শুরু করে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
বর্তমানে পুলিশের তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো, ফ্রিম্যান পলাতক অবস্থায় কারা তাকে সহায়তা করেছে তা চিহ্নিত করা। এ লক্ষ্যে টাস্কফোর্সের গোয়েন্দারা ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au