ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে পরিবারকে জানাল বড় ভাই
মেলবোর্ন, ১ মে- ইতালিতে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দুই প্রবাসী ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত…
মেলবোর্ন, ১ মে- মার্কিন অভিবাসন নীতিকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আবারও বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড ও স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়াকে কঠিন করে দেওয়া এবং এসব আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নীতি অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালত।
বুধবার দেওয়া এই রায়ে ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জুলিয়া কোবিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন এবং কংগ্রেসের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এই নীতিগুলো বৈধ নয়। তার মতে, আবেদনকারীদের জাতীয়তাকে “নেতিবাচক বিষয়” হিসেবে গণ্য করে যাচাই প্রক্রিয়া চালানো বৈষম্যমূলক এবং আইনের পরিপন্থি।
২০২৫ সালের নভেম্বরে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে এসব দেশের নাগরিকদের নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদন পর্যালোচনা কার্যত স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস একটি নীতি গ্রহণ করে, যেখানে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশের নাগরিকদের জাতীয়তাকে আবেদন যাচাইয়ের সময় “গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক উপাদান” হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইরান, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, সিরিয়াসহ মোট ২০টি দেশের প্রায় ২০০ জন নাগরিক ডিসেম্বর মাসে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন ফেডারেল কোর্টে মামলা করেন। মামলায় বিবাদী হিসেবে ইউএসসিআইএসকে যুক্ত করা হয়।
বুধবারের রায়ে বিচারক কোবিক ২২ জন বাদীর ক্ষেত্রে এই নীতি অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তারা আদালতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে দেখিয়েছিলেন যে এই নীতির কারণে তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি বাকি বাদীদের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না, তা নির্ধারণে উভয় পক্ষকে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক স্পষ্টভাবে বলেন, অভিবাসন নীতি কোনোভাবেই এমনভাবে প্রয়োগ করা যায় না যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং আইনগত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জিম হ্যাকিং এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইউএসসিআইএসের এই নীতি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যা অভিবাসন ব্যবস্থাকে অন্যায্যভাবে কঠিন করে তুলেছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই রায়ের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ওপর বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স, এনডিটিভি অনলাইন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au