নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ৬ মে- যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযানের ধাপ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “অপারেশনটি শেষ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। আমরা এই ধাপটি সম্পন্ন করেছি।” প্রায় এক মাস ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ ঘোষণা এলো।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে পরিচালিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি সমঝোতার পথে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে। সেই কারণেই অল্প সময়ের জন্য এই অভিযান বন্ধ রাখা হচ্ছে, যাতে তেহরানের সঙ্গে একটি “চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি” করা সম্ভব হয়।
তবে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের’ নীতি অনুসরণের অভিযোগ এনে বলেন, ওয়াশিংটন একতরফা দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত উৎস থেকে নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে কেন্দ্র করে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ। চীন এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। একই দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হলেও তেহরান জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো পরিকল্পিত হামলা ছিল না। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বাহরাইনকে ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পেন্টাগন।
ট্রাম্প আবারও ইরানকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নাও। আমরা মানুষ হত্যা করতে চাই না।” তার মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই এখন সবচেয়ে ভালো পথ।
প্রসঙ্গত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর টানা সংঘাতের মধ্যে পড়ে পুরো অঞ্চল। প্রায় ৪০ দিন সংঘাত চলার পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।
সূত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au