স্পেনের উপকূলে ভাসমান নৌকা থেকে ৮০ মরদেহ উদ্ধার
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের কাছে ভাসমান একটি নৌকা থেকে ৮০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। একই নৌকা থেকে ৪৪ জনকে…
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল বলে ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে।
অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল বলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন এবং মানুষের মধ্যে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি ঘিরে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রেও এ উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির, মঠ ও পূজামণ্ডপে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে রয়েছে শোভাযাত্রা, গীতাযজ্ঞ, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় আলোচনা সভা।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে এবার দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব শুরু হয়েছে। আজ প্রথম দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী মন্দিরসংলগ্ন পলাশীর মোড় থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। রাতে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীকৃষ্ণ পূজা। গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ ও মিশন।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরসংলগ্ন পলাশীর মোড়ে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শোভাযাত্রায় রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের ভক্তরা অংশ নেবেন।
কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে বিকেল ৩টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। পরে সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ, ইসকনের উদ্যোগে রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে জন্মাষ্টমী মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় আলোচনা, পূজা, কীর্তনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণের আয়োজন রয়েছে।
রাজধানীর আরও বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও দিনটি উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, রাজারবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, স্বামী ভোলানন্দ গিরি আশ্রম, প্রভু জগদ্বন্ধু মহাপ্রকাশ মঠ, ঠাটারিবাজার শিবমন্দির, রাধামাধব জিও দেব বিগ্রহ মন্দির, রাধাগোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দির, শিবমন্দির, রামসীতা মন্দির এবং মাধব গৌড়ীয় মঠ।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পৃথক বিবৃতিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় ঊষাতন তালুকদার, অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
এ ছাড়া মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এবং সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনে রয়েছে, জন্মাষ্টমীর বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই স্মরণ করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au