অস্ট্রেলিয়া

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, আদালতে আইটি শিক্ষকের দোষ স্বীকার

  • 10:32 pm - May 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৭৫ বার
মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, আদালতে আইটি শিক্ষকের দোষ স্বীকার। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৬ মে- অস্ট্রেলিয়ার একটি স্কুলে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষক কিম রামচেন হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রধান শিক্ষক অ্যারন সাইকসের ওপর দুই দফায় ছুরি দিয়ে হামলা চালান। ঘটনার আগে তিনি আচমকা নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং খুব রেগে যান।

গত বছরের ২ ডিসেম্বর কিসবোরো সেকেন্ডারি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ৩৭ বছর বয়সী রামচেনকে সেদিনই গ্রেপ্তার করা হয়।ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাকে আটক করার পর পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। বুধবার আদালতে হাজির হয়ে তিনি আঘাত করা, অস্ত্র দিয়ে হামলা ও বেআইনি আক্রমণের অভিযোগ স্বীকার করেন।

আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেদিন বিকেল ৩টার দিকে ক্লাস শেষ করে রামচেন অফিসের একটি রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নেন। এরপর কোনো কথা না বলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে তার দিকে ছুরি ধরেন। প্রধান শিক্ষক কিছু বুঝতে চেয়ে কথা বললে রামচেন হঠাৎই তাকে আঘাত করেন।

চিৎকার শুনে অন্য শিক্ষকরা এসে দেখেন, রামচেন ছুরি হাতে আক্রমণ করছেন। তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে আবার তিনি বড় একটি ছুরি নিয়ে ফিরে এসে দ্বিতীয়বার হামলা চালান। তখন সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা মিলে তাকে ধরে ফেলেন এবং পুলিশ আসা পর্যন্ত আটকে রাখেন।

এ হামলায় প্রধান শিক্ষকের গলায় জখম হয়। মুখ ও হাতেও আঘাত লাগে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত ও কালশিটে দাগ পড়ে।

পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রামচেন বলেন, কেন এমন করেছেন তা তিনি ঠিকভাবে বলতে পারেন না। হঠাৎ করে তিনি খুব রেগে যান এবং নিজেকে সামলাতে পারেননি।

আদালতে বলা হয়, এই ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক এখনো কাজে ফিরতে পারেননি এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, রামচেনের জীবনে অনেক সমস্যা ছিল। ছোটবেলা থেকে নানা কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। তবে এর আগে তিনি কখনো সহিংস আচরণ করেননি।

পরে জানা যায়, তার অটিজম ও বারবার হওয়া বিষণ্নতার সমস্যা আছে। তিনি মেধাবী ছিলেন এবং পিএইচডি শেষ করে শিক্ষকতা শুরু করেন বলে জানান তার কয়েকজন সহকর্মী। প্রায় দেড় বছর কাজ করার পর তাকে জানানো হয়, তার চাকরির চুক্তি আর নবায়ন করা হবে না। এরপর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মাদক নেওয়ার পরিমাণও বাড়ে এবং নিজেকে একা মনে করতে থাকেন।

একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, রামচেন মনে করতে শুরু করেন তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এবং তিনি প্রধান শিক্ষককে দায়ী ভাবতে থাকেন। এতে তার চিন্তা-ভাবনার ক্ষমতা কমে যায়।

আসামিপক্ষ বলেছে, তিনি ইতোমধ্যে ১৫৫ দিন জেলে ছিলেন, এটুকুই যথেষ্ট। তাকে সমাজের মধ্যে রেখে চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া উচিত। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, তার আরও কিছুদিন কারাভোগ করা দরকার, তারপর দীর্ঘ সময় নজরদারিতে রাখা যেতে পারে।

বিচারক আগামী সোমবার বিকেলে এই মামলার রায় দেবেন।

সূত্রঃ news.com.au

এই শাখার আরও খবর

নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…

সাত মাসের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার মামলায় বাবা গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…

জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার ওষুধের গরমিল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল ধরা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির…

৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত ৯ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে…

মন্দিরে নেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  ভারতের কর্নাটকের দেবনাহাল্লিতে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর জোরপূর্বক মদ খাইয়ে এক নির্মাণাধীন ভবনে সারা রাত সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা…

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

মেলবোর্ন, ২২জুলাই- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au