বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস আজ, স্বাস্থ্যসেবার নেপথ্যের যোদ্ধাদের সম্মান জানানোর দিন

  • 7:40 pm - May 12, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২১১ বার
আন্তর্জাতিক নার্স দিবস আজ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১২ মে- আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ নার্সরা। রোগীর সেবা, চিকিৎসা সহায়তা, মানসিক সমর্থন থেকে শুরু করে জরুরি মুহূর্তে মানবিক সহচর হয়ে ওঠেন তারাই। চিকিৎসক ও হাসপাতাল ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি দেশের স্বাস্থ্যখাত সচল রাখতে নার্সদের ভূমিকা অপরিসীম। সেই নার্সদের অবদান, ত্যাগ ও মানবিক সেবাকে সম্মান জানাতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস।

প্রতি বছরের মতো এবারও ১২ মে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। আধুনিক নার্সিং পেশার পথিকৃৎ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন উপলক্ষে দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, “আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ: জীবন রক্ষায় প্রয়োজন নার্সদের ক্ষমতায়ন”। স্বাস্থ্যসেবায় নার্সদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার বার্তা সামনে রেখেই এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব নার্সেস।

বাংলাদেশে দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন সংগঠন ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটস বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও নার্সরা অংশ নেন।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাহানারা পারভীন। আলোচনা সভায় নার্সদের পেশাগত নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, ঝুঁকি ভাতা, পদোন্নতি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। তাকে আধুনিক নার্সিংয়ের জননী বলা হয়। ক্রিমিয়ার যুদ্ধে আহত সৈন্যদের সেবার মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে মানবিক স্বাস্থ্যসেবার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে রাতের আঁধারে হাতে বাতি নিয়ে আহতদের সেবা করার কারণে তিনি “দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প” নামেও পরিচিত হয়ে ওঠেন।

নার্সিং পেশাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের অবদান ছিল অনন্য। তার হাত ধরেই আধুনিক নার্সিং শিক্ষা, রোগী পরিচর্যা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারা চালু হয়। পরবর্তীতে তার জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব নার্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ মে-কে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। যদিও ১৯৬৫ সাল থেকেই বিশ্বব্যাপী নার্সদের সম্মান জানিয়ে দিনটি পালন শুরু হয়েছিল।

বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পর থেকেই দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭৪ সাল থেকে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে। শুরুতে সীমিত পরিসরে পালিত হলেও বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে নার্সদের ভূমিকা নতুন করে সামনে আসে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশেও অসংখ্য নার্স দিন-রাত কাজ করে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সচল রেখেছেন। অনেক নার্স আক্রান্ত হয়েছেন, কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দক্ষ ও নিরাপদ নার্সিং সেবা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে দেশের নার্সদের এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। জনবল সংকট, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা, পর্যাপ্ত পদোন্নতির অভাব ও আধুনিক প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নার্সিং সংগঠন বলছে, স্বাস্থ্যখাতে নার্সদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন নার্স কেবল চিকিৎসাসেবার সহকারী নন, বরং রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন রোগীর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সান্ত্বনা, পরিচর্যা ও মানবিক সহায়তার জায়গাটিও নার্সদের হাত ধরেই পূরণ হয়। তাই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নার্সদের ক্ষমতায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং স্বাস্থ্যখাতে নিরলস পরিশ্রম করে যাওয়া লাখো নার্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। একই সঙ্গে এটি তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি নতুন করে সামনে আনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

এই শাখার আরও খবর

জাতিসংঘে ইরানকে ট্রাম্পের দুটি প্রস্তাব, চুক্তি না হলে ‘ধ্বংস’ করার হুঁশিয়ারি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের সামনে মূলত দুটি পথ তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছে নতুন…

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। কর্মসূচিকে কেন্দ্র…

১৫ মিনিটের জন্য বোয়িং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে…

১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারির অভিযোগ, ১০ ডিলারসহ কারাগারে ১৫

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে করা মামলায় ১০ বিসিআইসি সার ডিলারসহ ১৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২২…

তিন শিশুকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ, একজন নিহত: নারীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্লু মাউন্টেনস এলাকায় গাড়ির ভেতরে তিন শিশুকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে ৪২ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। হামলায়…

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: পাম্প থেকে বাজার—প্রভাব পড়বে সর্বত্র

দেশে যেন নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবর। সাধারণ মানুষ যখন মূল্যস্ফীতির চাপে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে আবারও চার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au