কক্সবাজারে ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি। ছবিঃ সংগৃহীত
কক্সবাজারের খরুলিয়ায় তিনটি মোটরসাইকেলে এসে একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে ছয় ব্যক্তি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার খরুলিয়া লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী মাহমুদুল হককে (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।
চিকিৎসাধীন মাহমুদুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে তিনি বাসা থেকে ব্যক্তিগত একটি মাইক্রোবাসে করে রামুর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে খরুলিয়া লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয় ব্যক্তি তাঁর গাড়ির গতিরোধ করেন। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি ছোড়া হয়।
মাহমুদুলের দাবি, একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজন তাঁর মাথা লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করেন। তবে ওই সময় অস্ত্র থেকে গুলি বের হয়নি। পরে তিনি দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হামলাকারীদের মধ্যে কক্সবাজারের লিংকরোড এলাকার জায়েদ, কিতাব আলী, ওয়াজেদ আলী ও আবু নাছেরকে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন মাহমুদুল। তাঁর অভিযোগ, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী।
এদিকে মাহমুদুলের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আবু নাছের নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছিলেন। তবে ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ উল্লাহ তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বলে দাবি তাঁদের।
মাহমুদুলের স্বজন মনিরও হামলার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর ইন্ধনে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তবে হামলায় বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততা কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ উল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমাদের টিম সেখানে কাজ করছে। আমরা একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছি। জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।”
হামলার পেছনে বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা তদন্ত করছি। ভুক্তভোগীর বক্তব্য সংগ্রহ করছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি।