ভারতে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম
মেলবোর্ন, ১৩ মে- ভারতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর দেশটির বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৩ মে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে নতুন করে শক্তি প্রদর্শনের বার্তা দিল রাশিয়া। দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাট’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বলে দাবি করেছেন।
বুধবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমন সময় রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সের কমান্ডার সের্গেই কারাকাভে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারমাট ক্ষেপণাস্ত্র রুশ সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হবে।
পুতিন জানান, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর ধ্বংসক্ষমতা পশ্চিমা বিশ্বের সমজাতীয় যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। তিনি দাবি করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো সারমাট ক্ষেপণাস্ত্রকে “শয়তান-২” নামেও উল্লেখ করে থাকে। রাশিয়ার দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র সাব-অরবিটাল বা উপকক্ষীয় পথে উড়তে সক্ষম। ফলে এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি এবং এটি পৃথিবীর প্রায় যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারে।
রাশিয়ার আরও দাবি, সারমাট আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা বিশ্বের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এটি ঠেকাতে পারবে না বলে মস্কোর দাবি।
রাশিয়া ২০১১ সালে সারমাট প্রকল্পের কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি উন্নয়ন পর্যায়ে ছিল। মঙ্গলবারের পরীক্ষার আগে মাত্র একবার সফল উৎক্ষেপণের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। এর মধ্যে ২০২৪ সালে একটি পরীক্ষার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, যা প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছিল।
এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত চুক্তিগুলো কার্যত অনিশ্চয়তায় রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত রাখার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি “নিউ স্টার্ট”-এর মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে।
এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেড ও সেগুলো বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে বাধ্য ছিল। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো নতুন কাঠামো নেই।
মস্কো ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই চুক্তি নবায়ন বা নতুন কাঠামো নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সামরিক আলোচনা চালুর আগ্রহ প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের চীন সফরের আগে রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ আলজাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au