জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ মে- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৭ মে) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে একই দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়েও তালা ঝুলানো হয়েছিল।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে ক্যাম্পাসজুড়ে।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আদৃতা রায় বলেন, “এত সময় পার হয়ে গেলেও আসামিকে গ্রেপ্তারের কোনো অগ্রগতি নেই। প্রশাসন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে কি না, সেটিও এখন প্রশ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা। প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করতেই তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন। তবে জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল রানাকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাহিদ আখতার, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জহির রায়হান এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফ।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত এক যুবককে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে।
ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও নানা কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।