খুলনায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে হিন্দু ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ১৮ মে- খুলনার কয়রা উপজেলায় ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে ভবতোষ মৃধা খোকা (৪৫) নামের এক হিন্দু ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ…
মেলবোর্ন, ১৮ মে- গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । সংস্থাটি বলছে, পরিস্থিতি এখনই বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি, বিশেষ করে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জনসাধারণের চলাচলের কারণে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জন সন্দেহভাজন আক্রান্ত এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত আটটি সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। প্রাদুর্ভাবটি মূলত বুন্ডিবুগিও নামের ইবোলা ভাইরাসের কারণে হয়েছে, যার জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া, মঙ্গওয়ালু এবং রোয়ামপারা এলাকায় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী কিনশাসাতেও একটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা ইতুরি থেকে ফিরে আসা একজন ব্যক্তির মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেশী উগান্ডাতেও অন্তত দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
উগান্ডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী এক কঙ্গো নাগরিকের মৃত্যুতে তার শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়। তার মরদেহ পরে কঙ্গোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমাতেও একটি সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে, যা বর্তমানে এম তেইন থ্রি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ সংক্রমণ শহরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে জনসংখ্যা বেশি এবং অনানুষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রও প্রচুর। পাশাপাশি নিরাপত্তা সংকটের কারণে আক্রান্তদের শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রাদুর্ভাবটি বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের কারণে হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ এই ধরণের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই ধরনের সংক্রমণে মৃত্যুহার প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
রোগটির প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও শরীর ব্যথা। পরবর্তী পর্যায়ে বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে র্যাশ এবং কিছু ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। ভাইরাসটি সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল যেমন রক্ত বা বমির সংস্পর্শে ছড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, কঙ্গো ও উগান্ডাকে জরুরি ভিত্তিতে আলাদা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন, সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ এবং রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করার ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, নিশ্চিত আক্রান্তদের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা ব্যবধানে দুটি পরীক্ষায় নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত আলাদা রেখে চিকিৎসা দিতে হবে।
এদিকে প্রতিবেশী দেশগুলো সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারি বাড়িয়েছে। রুয়ান্ডা জানিয়েছে, তারা কঙ্গো সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, সীমান্ত বন্ধ বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর সমাধান নয় এবং এতে আতঙ্ক বাড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণের প্রকৃত বিস্তার ও সংখ্যা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে, বর্তমান কঙ্গো অঞ্চলে। ধারণা করা হয়, এটি বাদুড়সহ কিছু প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ পর্যন্ত কঙ্গোতে এটি ১৭তম প্রাদুর্ভাব। গত কয়েক দশকে আফ্রিকায় ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এ রোগের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au