নাকবা দিবসে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ।
মেলবোর্ন, ১৭ মে- ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও চলমান গাজা সংকটের প্রতিবাদে ‘নাকবা দিবস’ উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ, অ্যাডিলেড ও হোবার্টে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন হাজারো মানুষ। তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যুদ্ধ বন্ধ ও ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন।
প্রতি বছর ১৫ মে ‘নাকবা দিবস’ পালন করেন ফিলিস্তিনিরা। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় লাখো ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে তারা ‘নাকবা’ বা ‘মহাবিপর্যয়’ হিসেবে স্মরণ করেন।
রোববার মেলবোর্নে স্টেট লাইব্রেরি থেকে ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট স্টেশন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় ৫০০ মানুষ অংশ নেন। ফিলিস্তিনি পতাকা, প্রতিবাদী ব্যানার ও প্রতীকী উপকরণ হাতে নিয়ে তারা শহরের কেন্দ্রস্থলে মিছিল করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় সার্জন ডা. বুশরা ওসমান। তিনি বলেন, “৭৮ বছর আগে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ঘরের চাবি হাতে নিয়ে ঘর ছেড়েছিল এই আশায় যে তারা আবার ফিরে আসবে। কিন্তু সেই চাবি এখন স্মৃতিচিহ্নে পরিণত হয়েছে, আর ঘরগুলো রয়ে গেছে শুধু স্মৃতিতে।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর Lidia Thorpe। তিনি বলেন, আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে রয়েছে। তার ভাষায়, “নাকবা এখনো শেষ হয়নি, এটি আজও চলমান।”
গ্রিনস দলের সিনেটর David Shoebridge অস্ট্রেলীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সরকারের নীরবতা ও ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
এদিকে ব্রিসবেনে প্রায় ৩৫০ জন বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় জড়ো হন। সেখানে ফিলিস্তিনি বক্তারা নাকবার ইতিহাস, প্রতিরোধ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মিছিলজুড়ে “ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন” স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
পার্থে প্রায় ৩০০ মানুষ অংশ নেন নাকবা দিবসের সমাবেশে। ‘ফ্রেন্ডস অব প্যালেস্টাইন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া’র সেক্রেটারি নিক এভারেট বলেন, এই সমাবেশ চলমান সংহতি আন্দোলনের অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল ও উচ্ছেদ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
অ্যাডিলেডে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে দুই শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানান। সেখানে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ফিলিস্তিনি কমিউনিটির সদস্য হুসাম এলাসাদ বক্তব্য দেন। তিনি বাস্তুচ্যুতির প্রভাব নিজের পরিবার ও কমিউনিটির অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে হোবার্টেও শতাধিক মানুষ মিছিল শেষে পার্লামেন্ট হাউসের সামনে সমাবেশ করেন। সেখানে কবিতা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ ঘিরে বিভিন্ন শহরে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ