Commissioner Virginia Bell handed down the interim report with its 14 recommendations on April 30, 2026. ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ মে- অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ এবং অনলাইন ঘৃণামূলক প্রচারণার কারণে বহু ইহুদি শিল্পী ও সংগীতশিল্পীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উঠে এসেছে দেশটির অ্যান্টি-সেমিটিজম ও সামাজিক সংহতি বিষয়ক রয়্যাল কমিশনের শুনানিতে। সেখানে শিল্পীরা তাদের জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মেলবোর্নের খ্যাতিমান স্যাক্সোফোনবাদক ও সুরকার জশুয়া মোশে কমিশনের সামনে বলেন, অনলাইনে তাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত ঘৃণামূলক প্রচারণা তার বহু বছরের সংগীতজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি জানান, সাত বছর ধরে যেই ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন, সেই ব্যান্ড থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি হারাতে হয়েছে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও।
জশুয়া মোশে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তাকে ‘জায়নিস্ট’, ‘বয়কট’ এবং নানা বিদ্বেষমূলক শব্দে আক্রমণ করা হয়। এ ঘটনার পর তিনি অসংখ্য হুমকি ও ঘৃণামূলক বার্তা পেতে থাকেন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের জীবন ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অনুভব করেন।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় গায়িকা ও গীতিকার ডেবোরাহ কনওয়ে। তিনি বলেন, তাকে ঘিরেও সংগঠিত বয়কট প্রচারণা চালানো হয়, যার ফলে কয়েকটি সংগীতানুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায়।
ডেবোরাহ কনওয়ে জানান, এক অনুষ্ঠানের বাইরে প্রায় ৭০ জন মুখোশধারী বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, “আমি শান্তি চাই। আমি চাই দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান হোক। সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে।”
রয়্যাল কমিশনের শুনানিতে বিশেষজ্ঞ সাক্ষীরাও অস্ট্রেলিয়ায় অনলাইন ও সরাসরি ইহুদিবিদ্বেষ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে সতর্ক করেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে তারা জানান।

ছবিঃ সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ান জিউরি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের ২০২৪-২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা ৩১৬ শতাংশ বেড়েছে।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল কাউন্সিল অব জিউইশ উইমেন পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৬৮ জন ইহুদি নারীর মধ্যে ৮১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা নিজেরা অথবা তাদের পরিবারের সদস্যরা সরাসরি ইহুদিবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন।
শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সামাজিক বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনলাইন বিদ্বেষ ও সংগঠিত ঘৃণামূলক প্রচারণা শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সম্প্রীতিকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।