আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ মে- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হাসান জিলহানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।এছাড়াও হামলাকারীরা তাঁর দুই পায়ের রগ কেটে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। তিনি উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকার মৃত হারুনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পুকুরপাড় এলাকায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে এবং তাঁর পায়ের রগ কেটে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন।
জাকারিয়ার এক আত্মীয় জানান, হামলার পর তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখমের সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, রাত ৯টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় জাকারিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এমন গুরুতর ক্ষত ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে সেলাই দেওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। চিকিৎসকদের ধারণা, তাঁর পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তা। তবে আত্মগোপনে থাকা স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা আবু তাহের দাবি করেন, জাকারিয়া হাসান জিলহান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দখল, পাহাড় কাটা ও বিভিন্ন স্থানীয় অনিয়ম নিয়ে সরব ছিলেন। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত দলীয় বিভিন্ন পোস্টও দিতেন। এসব কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।