ময়মনসিংহের জঙ্গলে পড়ে থাকা বাঁধা ও গলাকাটা লাশটি দিনাজপুরের কাউসার আলমের। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ মে- ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া হাত বাঁধা ও গলাকাটা মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের কাউসার আলম (৪৪) বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার মশাখালী ইউনিয়নের দড়ি চারবাড়িয়া গ্রামের শাহাকান্দা ভিটা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

গফরগাঁও উপজেলায় গাছে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবিঃ সংগৃহীত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে স্থানীয় লোকজন একটি গাছের সঙ্গে দুই হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির ধড় দেখতে পান। নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথাটি পড়ে ছিল মরদেহের পাশেই। পরে বিষয়টি পাগলা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কেউ নিহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে না পারায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিমকে খবর দেওয়া হয়। পরে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত কাউসার আলম দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার জামেদ আলীর ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পিবিআইয়ের সহায়তায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
পুলিশের ধারণা, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে কাউসার আলমকে হত্যা করে মরদেহ জঙ্গলের ভেতরে ফেলে রেখে যায়। তবে কী কারণে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এবং কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।