মেলবোর্ন, ২২ মে- উগ্র ডানপন্থার বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণার রাজনীতি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপের মধ্যে বড় হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের তরুণেরা। এই অস্থির ও বিভক্ত বাস্তবতায় নিজেদের মানসিকভাবে টিকিয়ে রাখতে নতুন এক জীবনধারা বেছে নিচ্ছে জেন-জি, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কিডাল্টিং’।
‘কিডাল্টিং’ বলতে বোঝায়, প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও শৈশবের অভ্যাস, খেলনা, কার্টুন বা শিশুসুলভ কর্মকাণ্ডে স্বস্তি ও নিরাপত্তা খোঁজা। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কেবল বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা নয়; বরং এক ধরনের মানসিক আত্মরক্ষার উপায়।
বিশ্বজুড়ে অনেক তরুণ এখন তুলতুলে খেলনা সংগ্রহ করছেন, শৈশবের অ্যানিমেশন বা কার্টুন দেখছেন, লেগো দিয়ে নানা স্থাপনা তৈরি করছেন কিংবা হাতে তৈরি শিল্পকর্মে সময় কাটাচ্ছেন। এসব কাজ তাদের মানসিক চাপ কমাতে এবং একাকিত্ব দূর করতে সহায়তা করছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ, রাজনৈতিক বিভাজন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে তারা এমন এক জগতে আশ্রয় খুঁজছে, যেখানে প্রতিযোগিতা বা ঘৃণার বদলে আছে নিরাপত্তা, কোমলতা ও স্মৃতির আবেগ।
লন্ডনভিত্তিক জনপ্রিয় খেলনা ব্র্যান্ড ‘জেলিকেট’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এই প্রবণতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অনেক তরুণ তাদের পছন্দের খেলনাকে পরিবারের সদস্যের মতো দেখছেন, নাম দিচ্ছেন, এমনকি জন্মসনদও তৈরি করছেন। এক ১৯ বছর বয়সী তরুণ তার প্রিয় প্লাশ টয় অক্টোপাসের নাম দিয়েছেন ‘টোটো’। তার ভাষায়, অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে এই খেলনাই তাকে মানসিক স্বস্তি দেয়।
এ ছাড়া মার্ডার মিস্ট্রি গেম, এস্কেপ রুম, ভার্চুয়াল গেমিং বা কল্পনার জগৎভিত্তিক নানা কার্যক্রমেও ঝুঁকছে তরুণেরা। এসব বিনোদনে তারা এমন এক জগৎ খুঁজে পায়, যেখানে সামাজিক বিভাজন বা রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পারস্পরিক অংশগ্রহণ ও অনুভূতি।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই প্রবণতার মধ্যেও বৈষম্যের বাস্তবতা স্পষ্ট। কারণ সবার শৈশব একরকম নিরাপদ বা আনন্দময় ছিল না। কারও শৈশব কেটেছে খেলনা আর বিনোদনে, আবার কারও বেড়ে ওঠা হয়েছে দারিদ্র্য ও বঞ্চনার মধ্যে। ফলে ‘কিডাল্টিং’ সবার জন্য সমান অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে না।
তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠিন বাস্তবতার মধ্যে মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখতে জেন-জি প্রজন্ম নিজেদের মতো করে নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছে। আর সেই পথের অন্যতম নাম হয়ে উঠছে ‘কিডাল্টিং’।
সুত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস