কঙ্গোতে জাতীয় জরুরি ঝুঁকি বাড়াল WHO । ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ মে- গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলার নতুন ধরন ‘বুন্ডিবুগিও’ স্ট্রেইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি দেশটিতে ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি জাতীয় পর্যায়ে ‘অতি উচ্চ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে ‘নিম্ন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, কঙ্গোতে ইবোলার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তারের আশঙ্কা অনেক বেশি হওয়ায় নতুন ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কঙ্গোতে ৮২ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৭৭টি সন্দেহজনক মৃত্যু এবং প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য জরুরি সতর্কতা ও প্রতিক্রিয়া বিভাগের পরিচালক আবদিরাহমান মাহামুদ বলেন, ভাইরাসটির সংক্রমণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এটি কঙ্গোর সীমান্ত ছাড়িয়ে আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও দুইজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। তারা সম্প্রতি কঙ্গো সফর করেছিলেন। আক্রান্তদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। তবে উগান্ডা সরকার দ্রুত কন্টাক্ট ট্রেসিং, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
সংক্রমণের আন্তর্জাতিক বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। কঙ্গোতে কর্মরত এক মার্কিন নাগরিক ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চঝুঁকিতে থাকা আরেক মার্কিন নাগরিককে চেক প্রজাতন্ত্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলার এই নতুন ধরনটি আগের চেয়ে বেশি জটিল হতে পারে। কারণ, এর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষেধক এখনো অনুমোদন পায়নি। তবে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ওবেলডেসিভির’ নামের একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার নিয়ে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Gilead Sciences–এর তৈরি এই ওষুধটি মূলত কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য উদ্ভাবিত হয়েছিল।
ডব্লিউএইচও’র প্রধান বিজ্ঞানী সিলভি ব্রিয়াঁ বলেন, ওবেলডেসিভির ইবোলার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং অত্যন্ত কঠোর চিকিৎসা প্রটোকলের আওতায় প্রয়োগ করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে মধ্য আফ্রিকাজুড়ে নতুন জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স