মেলবোর্ন, ২৩ মে- পূর্ব ইউরোপে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বেলারুশে আরও পারমাণবিক অস্ত্র পাঠিয়ে এবং ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ যৌথ পারমাণবিক মহড়া চালিয়ে পশ্চিমা জোট ন্যাটোকে সরাসরি শক্তির বার্তা দিয়েছে রাশিয়া। এই পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং পশ্চিমাদের সামরিক চাপ মোকাবিলায় নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে মস্কো।
সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো যৌথভাবে বিশাল সামরিক মহড়া পরিচালনা করেন। এই মহড়ায় রাশিয়ার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী যান অংশ নেয়। মহড়ার অংশ হিসেবে ‘ইয়ার্স’ নামের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়, যা কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে অল্প সময়েই আঘাত হানতে সক্ষম।
রাশিয়া ইতোমধ্যে বেলারুশকে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও ‘ইস্কান্দার-এম’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি সামরিক ঘাঁটিতে এসব অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। এর ফলে ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মহড়ার পর প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো বলেন, তারা কাউকে হুমকি দিতে চান না, তবে নিজেদের ভূখণ্ড ও মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো সময়ের দাবি।
এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হলে তার জবাব হবে “অত্যন্ত বিধ্বংসী”। একইসঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বেলারুশকে সামনে রেখে নতুন সামরিক চাপ তৈরি করতে চাইছে রাশিয়া।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই মুহূর্তে বেলারুশে অবস্থানরত রুশ সেনা নতুন বড় ধরনের হামলার জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোকে ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরিই এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ায় রাশিয়া এখন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন ভূরাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। আর সেই কৌশলের কেন্দ্রেই উঠে এসেছে বেলারুশ।