মেলবোর্ন, ২৫মে- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার মগড়ায় আইএফএ স্টেট ইউথ লিগ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল ম্যাচে অফসাইডের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রেফারির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষুব্ধ ফুটবলারদের মারধরে মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ম্যাচ রেফারি। হামলার শিকার হন নারী সহকারী রেফারিও। ঘটনাটি ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার মগড়ার নতুন গ্রাম সন্তান সংঘ মাঠে ভবানীপুর ক্লাব ও হুগলি সিটি ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচে এ ঘটনা ঘটে। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভবানীপুর ক্লাব ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। খেলার একেবারে শেষ দিকে হুগলি সিটি ক্লাব একটি গোল করলে সহকারী রেফারি সেটিকে অফসাইড ঘোষণা করে ফ্ল্যাগ তোলেন। পরে মূল রেফারি বাঁশি বাজিয়ে গোল বাতিল করেন।
এ সিদ্ধান্তের পরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হুগলি সিটি ক্লাবের কয়েকজন ফুটবলার। তারা মাঠের মধ্যেই রেফারির দিকে তেড়ে যান এবং তাকে ঘিরে মারধর শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সহকারী নারী রেফারিকেও ধাওয়া ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার মুখে রেফারি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মারধরের শিকার হয়ে মাঠেই পড়ে যান। পরে আইএফএর দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিজিও দ্রুত মাঠে এসে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং বুকে পাম্প করে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে আইএফএ কর্মকর্তা অনির্বাণ দত্ত মগড়া থানায় যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
এদিকে ম্যাচ আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভবানীপুর ক্লাব। তাদের অভিযোগ, আইএফএর গুরুত্বপূর্ণ লিগ ম্যাচ হলেও মাঠে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা ছিল না। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের জন্য ড্রেসিংরুম, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা কিংবা বসার উপযুক্ত স্থানও ছিল না। অনেককে মাঠের পাশে গাছতলায় বসে থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই খেলাধুলার মাঠে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।