ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
মেলবোর্ন, ২৮ মে- ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ২৮ মে- ইবোলার নতুন ধরন ‘বুন্দিবুগিও’ মোকাবিলায় নতুন টিকা তৈরি করার দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির বিজ্ঞানীরা প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম একটি টিকা উদ্ভাবন করেছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস জানায়, রুশ বিজ্ঞানীরা ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সক্ষম একটি নতুন টিকা তৈরি করেছেন। রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকোর বরাত দিয়ে বলা হয়, এই টিকা ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কঙ্গোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক মাসেই দেশটিতে ইবোলায় অন্তত ২২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ভাইরাসটি ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন শনাক্ত হয়েছে। এগুলো হলো জাইর, সুদান, বুন্দিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছিল জাইর প্রজাতি। তবে এবার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বুন্দিবুগিও ধরনটি।
ইবোলা অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্রসহ শরীরের বিভিন্ন তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, সুঁই কিংবা মৃতদেহের সংস্পর্শ থেকেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তবে এটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলখেকো বাদুড় ইবোলার প্রধান প্রাকৃতিক বাহক। এছাড়া শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাংসহ বিভিন্ন প্রাইমেট প্রাণীও ভাইরাস বহন করতে পারে।
ইবোলার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ। রোগের শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত শুরু হতে পারে। এ কারণেই ইবোলাকে ‘হেমোরেজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বর বলা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে কঙ্গোতে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে এই হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এর মাত্র ১০ দিনের মাথায় রাশিয়ার টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো টিকাকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে অবশ্যই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, পিয়ার-রিভিউ গবেষণা এবং কার্যকারিতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উচিত হবে না নতুন টিকাটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au