মায়ানমার ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডকে নয়াদিল্লির নিরাপত্তা স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ জুন- ভারত ও মায়ানমারের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ মিন অং হ্লাইং। সোমবার (১ জুন) অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে মায়ানমারের পক্ষ থেকে ভারতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, দেশটির ভূখণ্ড কখনোই ভারতের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সীমান্তবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি জানান, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন সহায়তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর বিষয়েও মতৈক্য গড়ে ওঠে।
ভারত সরকার মনে করছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মায়ানমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা মায়ানমারের জন্যও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট উ মিন অং হ্লাইং বর্তমানে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে অবস্থান করছেন। মায়ানমারের সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরগুলোর একটি।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সীমান্ত পরিস্থিতিকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি ও নেপিদোর মধ্যে এই বৈঠক কৌশলগত দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই আলোচনা ভবিষ্যতে ভারত-মায়ানমার সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।