হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির…
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। লেবানন সীমান্ত ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর দেশটির একাধিক শহর ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান।
সোমবার (১ জুন) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, লেবানন থেকে নিক্ষেপ করা অন্তত তিনটি প্রজেক্টাইল বা রকেট আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় দুটি সন্দেহজনক আকাশযানও শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর টেলিগ্রাম বার্তায় বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। শুধু সোমবারই উত্তর ইসরায়েলে অন্তত ছয়বার সতর্কতা সাইরেন বেজেছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
বিশেষ করে লেবানন সীমান্তসংলগ্ন মেতুলা এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। সীমান্তজুড়ে সামরিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ বা হামলা ঠেকাতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের আশপাশে তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।
তবে এর আগের দিন ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা বিউফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং সেখানে নিজেদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে। দুর্গটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি নিয়ে দুই পক্ষের দাবির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, লেবাননের লিতানি নদী অঞ্চলকে ঘিরে একটি নতুন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে তেল আবিব। তাঁর মতে, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে। রকেট হামলা, পাল্টা সামরিক অভিযান এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের কারণে অঞ্চলটিতে পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কা আবারও বাড়ছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট দুর্গ ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সে সময় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে দুর্গটি আবারও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au