হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির…
মেলবোর্ন, ১ জুন- ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ইতিহাসে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। প্রথম ১৭ মৌসুমে একবারও ট্রফি জিততে না পারা দলটি এখন পরিণত হয়েছে আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবারও শিরোপা জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএলের মুকুট নিজেদের করে নিয়েছে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু।
মঙ্গলবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে গুজরাট টাইটানসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। প্রথমে বল হাতে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে গুজরাটকে সীমিত রানে আটকে দেয় বেঙ্গালুরুর বোলাররা। পরে বিরাট কোহলির অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ১২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দলটি।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে গুজরাট টাইটানস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে গুজরাট।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ৩৭ বলে খেলা তার ইনিংসে ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারি। তবে অন্য প্রান্তে ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে তার ইনিংসটি দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি।
বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ভারতীয় পেসার রাসিখ সালাম। চার ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং গুজরাটের রান তোলার গতি কমিয়ে দেয়।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে বেঙ্গালুরু। ওপেনিং জুটিতে বিরাট কোহলি ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার মাত্র ২৭ বলে ৬২ রান যোগ করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন।
আইয়ার ১৬ বলে ৩২ রান করে আউট হলেও অপর প্রান্তে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন কোহলি। এরপর দেবদূত পাড়িক্কাল, অধিনায়ক রজত পাতিদার ও ক্রুনাল পান্ডিয়া দ্রুত ফিরে গেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি বেঙ্গালুরু।
১০ম ওভারে ৯১ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর কিছুটা চাপে পড়েছিল দলটি। সেই পরিস্থিতিতে টিম ডেভিডকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪১ রানের জুটি গড়েন কোহলি। ডেভিড ১৭ বলে ২৪ রান করে আউট হলেও জয়ের পথে এগিয়ে নেয় দলকে।
শেষ দিকে জিতেশ শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করেন বিরাট কোহলি। ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করে আবারও শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন ভারতীয় এই তারকা ব্যাটার।
জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলতে বেঙ্গালুরুর লাগে মাত্র ১৮ ওভার। ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
গত মৌসুমের মতো এবারও ফাইনালে ব্যাট হাতে দলের সেরা পারফরমার ছিলেন কোহলি। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের পেছনে তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও ধারাবাহিক ব্যাটিং বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
এই জয়ের মাধ্যমে আইপিএলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। একসময় শিরোপাহীনতার হতাশা বয়ে বেড়ানো দলটি এখন টানা দুই মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন। আর দলের দীর্ঘদিনের মুখ বিরাট কোহলির ক্যারিয়ারেও যোগ হলো আরও একটি গৌরবময় অর্জন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au