মেলবোর্ন, ২ জুন- মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান প্রদেশে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪৬ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শক্তিশালী এ বিস্ফোরণে শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে শান প্রদেশের নামখাম জেলার কাউং তাত গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় রাত ১২টার দিকে সংঘটিত বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় সূত্র ও উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে কাউং তাত গ্রামের প্রায় ২০০টি এবং পার্শ্ববর্তী পান লোন গ্রামের আরও অন্তত ১০০টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো এলাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদের চেহারা নিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং মাত্র এক বছর বয়সী একটি শিশুও প্রাণ হারিয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রথমদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। তবে পরে শান প্রদেশ নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এক বিবৃতিতে জানায়, একটি গুদামে সংরক্ষিত খনিশিল্পে ব্যবহৃত বিস্ফোরক জেলিগনাইট দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরিত হওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।
টিএনএলএ জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত কাউং তাত ও পান লোন গ্রাম থেকে অন্তত ৭৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে টিএনএলএ। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত ছিল এবং কী কারণে তা বিস্ফোরিত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চীন, লাওস ও থাইল্যান্ড সীমান্তঘেঁষা শান প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে উঠে আসে তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি। এক বছরের মধ্যেই তারা শান প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এ অঞ্চলটি মূল্যবান জেড পাথরের খনির জন্যও পরিচিত। খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিস্ফোরণ শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত অঞ্চলে বিস্ফোরক সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।