মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটুক, তা ইরান চায় না। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।
রোববার (১ জুন) জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন আলাপের সময় এই আশ্বাস দেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বৈঠকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ফোনালাপে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান। জবাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, জাপানের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বজায় রাখতে তেহরান বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জাপানি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে।
মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার জন্য ইরান দায়ী নয়। বরং তিনি এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপকে দায়ী করেন। তাঁর মতে, ইরানের জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাই এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’র বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ফোনালাপে জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরান সবসময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও দেশটির অগ্রাধিকার।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও জাপানের এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে ইরানের এই আশ্বাস আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।