পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে মমতা, বিজেপি হটানোর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৩ জুন- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২ জুন- বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তীব্র খরা, অতিবৃষ্টি এবং চরম আবহাওয়ার নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে এল নিনো। জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সাধারণত এল নিনো নয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষ ভাগ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রের নিচেও স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে উপরের স্তরে উঠে এসে এল নিনোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির জন্য বিশ্বকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ এর ফলে খরা, অতিবৃষ্টি এবং স্থল ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর প্রভাবেই ২০২৪ সাল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, আফ্রিকার শিং অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে খরা ও পানির সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো শুধু তাপমাত্রাই বাড়ায় না, এটি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ও হারিকেনের শক্তিও বৃদ্ধি করতে পারে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্ববাসীকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এল নিনোকে একটি বৈশ্বিক জলবায়ু সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, কারণ এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
তবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর সংখ্যা বা শক্তি সরাসরি বেড়েছে এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে এল নিনোর প্রভাব আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে তাপপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে এখন থেকেই দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। অন্যথায় সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি সরবরাহ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au