মেলবোর্ন, ৩ জুন- কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভোরে সংঘটিত হামলায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। হামলার পর ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঘটনার পর বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
হামলার পরপরই জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত ৬৩ জনের মধ্যে অন্তত সাতজনের জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বিমানবন্দর কর্মী, যাত্রী এবং অন্যান্য বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পর টার্মিনাল-৪ থেকে কুয়েত এয়ারওয়েজের ফ্লাইট কার্যক্রম সীমিত আকারে পুনরায় চালু করা হয়।
হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। দেশটির সরকার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
তবে হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।