সিরিয়া থেকে ফেরত আসা আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট নারীকে জামিন না দিতে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ জুন- অস্ট্রেলিয়ায় সিরিয়া-ফেরত এক নারীকে ঘিরে আলোচিত একটি মামলায় জামিন না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তাঁর পরিবার সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এক ইয়াজিদি কিশোরীকে দাসত্বে রেখে নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মেলবোর্ন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে অনুষ্ঠিত জামিন শুনানিতে ৩১ বছর বয়সী জয়নাব আহমদকে ঘিরে এ অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। শুনানিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন, তাই তাঁর জামিন গ্রহণযোগ্য নয়।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে জয়নাব আহমদ তাঁর পরিবারের সঙ্গে সিরিয়ায় যান এবং সেখানে ইসলামিক স্টেটকে সমর্থন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে তাঁর বাবা মোহাম্মদ আহমদ প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলারে এক ইয়াজিদি কিশোরীকে কিনে দাস হিসেবে ব্যবহার করেন বলে আদালতে জানানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কিশোরীকে পরিবারের বাড়িতে রাখা হয় এবং সেখানে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। আদালতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তের বাবা ওই কিশোরীকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “আমি তোমাকে কিনেছি ঘরের কাজ ও যৌন নির্যাতনের জন্য।”
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, জয়নাব আহমদ নিজে ওই কিশোরীকে শারীরিকভাবে আঘাত না করলেও তাঁর প্রতি কঠোর আচরণ করতেন এবং গৃহস্থালির কাজ করাতে বাধ্য করতেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডিটেকটিভ সিনিয়র কনস্টেবল মার্ক ক্লেন্ডেনিং আদালতে বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এমন আচরণের ইতিহাস রয়েছে যা অন্যদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, কোনো শর্তই এই ঝুঁকি যথেষ্টভাবে কমাতে পারবে না।
আদালতে আরও জানানো হয়, অভিযুক্ত ২০১৫ সালে পরিবারসহ তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যান। তাঁর স্বামী ২০১৬ সালে একটি ড্রোন হামলায় নিহত হন। এরপর তিনি আইএস সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে করেন এবং সংগঠনটির কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, তিনি কখনোই আইএস-এর প্রতি তাঁর সমর্থন প্রত্যাহার করেননি, এমনকি কুর্দি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের পরও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান দেননি।
এই মামলায় আরও বলা হয়, ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ওপর ইসলামিক স্টেটের ভয়াবহ নির্যাতনের কারণে স্থানীয় ইয়াজিদি জনগোষ্ঠী এই ঘটনার কারণে আতঙ্কে রয়েছে এবং অভিযুক্ত জামিনে মুক্তি পেলে তারা আরও ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন যে ইসলামিক স্টেটের শাসনামলে তাঁর মক্কেলের নিজস্ব চলাফেরা ও স্বাধীনতাও কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ ছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এমন তথ্য রয়েছে যে তিনি ইসলামিক স্টেটের কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং তাদের সমর্থনে সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তাই তাঁকে জামিন দিলে তা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
মামলার শুনানি আগামীকালও চলবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ