ধান কাটার তর্কে রক্তাক্ত পরিণতি: জয়পুরহাটে গাছের ডালের আঘাতে দিনমজুর নিহত, আটক যুবক। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ জুন- জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কাশিড়া গ্রামের একটি সড়কে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত হাসান আলী (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শ্যামল চন্দ্র মালীর বাড়ি আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া শীলপাড়া গ্রামে। আটক হাসান আলীর বাড়ি ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসান দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে স্বভাবের হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে শ্যামল চন্দ্র মালী কাশিড়া হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে কাশিড়া সড়কে হাসান আলীর সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় গ্রামের একটি জমির ধান কাটার বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্যামল হাটের দিকে রওনা দিলে ক্ষুব্ধ হাসান একটি গাছের ডাল দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন।
আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে শ্যামল চন্দ্র মালী সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হাসান আলী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিহতের ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
হাসপাতালে নিহতের মরদেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। স্ত্রী দীপালী মালী বলেন, “আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। আমার ছেলেমেয়েরা এতিম হয়ে গেল।”
নিহতের ছোট ভাই পরিমল চন্দ্র মালী জানান, কথা-কাটাকাটির পর শ্যামল হাটের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় পেছন থেকে গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন হাসান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী বলেন, “কাকার মাথায় আঘাত করার পর হাসান পালিয়ে যাচ্ছিল। আমি ধাওয়া করে তাকে আটক করি। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।”
পুলিশের হেফাজতে থাকা হাসান আলী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, “আমাকে ধান কাটতে বলেছিল। এ কারণে আমি গাছের ডাল দিয়ে শ্যামলের মাথায় আঘাত করেছি। পরে লোকজন আমাকে ধরে মারধর করেছে।”
আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহজাবিন জানান, শ্যামল চন্দ্র মালীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মাথা ও মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।