নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ১১ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারা জর্দানে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স জর্দানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন ছিল।
আইআরজিসির ভাষ্য, হামলায় ঘাঁটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে অবস্থানরত কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। তবে এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্দানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ইরান জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের কারাজ ও নাজারাবাদ এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্র, একটি শিল্প কমপ্লেক্স এবং পিশভা কাউন্টিতে অবস্থিত আইআরজিসির একটি ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যতদিন ‘শত্রুপক্ষের আগ্রাসন’ চলবে, ততদিন তাদের সামরিক অভিযানও অব্যাহত থাকবে।
এর আগে ইরান দাবি করেছিল, কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমদ আল জাবের বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিসহ অঞ্চলের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তারা হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত এখন নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও ক্রমেই বাড়ছে। ফলে বিশ্বের নজর এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au