মার্কিন হামলায় মৃত্যুর আগে সুরেশ বলেছিলেন, ‘আমি নিরাপদে বাড়ি ফিরব’
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- ওমান উপসাগরে মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিক পাটনালা সুরেশের শেষ কথাগুলো এখনো ভুলতে পারছেন না তার স্ত্রী পাটনালা ভার্গবী। মাত্র কয়েকদিন…
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) আগামী রবিবারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তির ভাষা ও বিভিন্ন শর্ত নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে ইরান তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। তেহরানের দাবি, সমঝোতা কার্যকর করতে হলে শুধু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করলেই হবে না, একই সঙ্গে লেবাননেও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে বর্তমানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, শনিবারের মধ্যে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতে পারেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। তিনি বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি দুর্দান্ত সমাধান করেছি।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সম্ভাব্য সমঝোতার অগ্রগতির কারণেই নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনায় তেহরানের দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খসড়া চুক্তিতে ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা বিপুল অর্থ ছাড়ের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো আপাতত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং তেহরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে জোর দিয়ে আসছে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় সামরিক উপস্থিতি সীমিত করার প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করছে।
সমঝোতার সম্ভাব্য খবর আন্তর্জাতিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি কমেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা হবে। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
তবে সম্ভাব্য এই সমঝোতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্ত ইসরায়েলের জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। কারণ, ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলেও বর্তমানে চলমান শান্তি আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা স্মারকের অংশীদার নয় ইসরায়েল। ফলে চুক্তি স্বাক্ষর হলেও আঞ্চলিক বাস্তবতায় নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল আটকে দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রবিবার সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হলে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ এবং এর বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর হবে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au