বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাইবান্ধার রাধাগোবিন্দ মন্দির ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকার ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এসব দাবি ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
সভায় নেতারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়, সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা সামগ্রিক সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে গাইবান্ধার রাধাগোবিন্দ মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা জানান।
সভা থেকে সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতা ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সম্পাদকীয় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, রঞ্জন কর্মকার, জয়ন্ত কুমার দেব, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, রবীন্দ্রনাথ বসু, অ্যাডভোকেট দীপংকর ঘোষ ও পদ্মাবতী দেবীসহ দেশের প্রায় ৫০টি জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।

ছবিঃ সংগৃহীত
এ সময় আগামী ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর সংগঠনের একাদশ জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারভিত্তিক আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
নেতারা বলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। তাই সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সমঅধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।