মার্কিন হামলায় মৃত্যুর আগে সুরেশ বলেছিলেন, ‘আমি নিরাপদে বাড়ি ফিরব’
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- ওমান উপসাগরে মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিক পাটনালা সুরেশের শেষ কথাগুলো এখনো ভুলতে পারছেন না তার স্ত্রী পাটনালা ভার্গবী। মাত্র কয়েকদিন…
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়ের বিষয়টি। কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিশেষ শর্তে ইরানের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা যেমন এগোচ্ছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুমকি এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির অর্থের একটি অংশ ছাড়ের বিষয়ে ইতোমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। আঞ্চলিক দুটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ইতোমধ্যে ইরানের হাতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে মোট ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা। তবে এ অর্থ ছাড়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, ইরান ভবিষ্যতে আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না।
আমিরাতের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠাই তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্য থেকেই এই আর্থিক সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্বাক্ষরিত হতে পারে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নাম সম্ভাব্য স্বাক্ষরকারী হিসেবে উঠে এসেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করছে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে।
তবে শান্তি আলোচনার এই ইতিবাচক অগ্রগতির মাঝেও উত্তেজনা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ‘কামিকাজে’ ড্রোন পাঠিয়েছিল। মার্কিন বাহিনী সেগুলো সফলভাবে ভূপাতিত করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় সেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে ওই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবোল্লাহ সাইয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘ডেনা’র ১০৪ নাবিকের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ডেনা’ কোনো যুদ্ধ অভিযানে ছিল না। আন্তর্জাতিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালিয়েছে। নিহত নাবিকদের রক্ত বৃথা যাবে না এবং এর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের দাবি, চলতি বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার গলে উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিন ইউএসএস শার্লট থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে যুদ্ধজাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে থাকা ১৩৬ আরোহীর মধ্যে ১০৪ জন নিহত হন এবং ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুদ্ধবিরতি ও অর্থনৈতিক সমঝোতার আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনা ও প্রতিশোধের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এখনো অনিশ্চিত করে রেখেছে। তবে যদি জেনেভায় প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে তা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au