মার্কিন হামলায় মৃত্যুর আগে সুরেশ বলেছিলেন, ‘আমি নিরাপদে বাড়ি ফিরব’
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- ওমান উপসাগরে মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিক পাটনালা সুরেশের শেষ কথাগুলো এখনো ভুলতে পারছেন না তার স্ত্রী পাটনালা ভার্গবী। মাত্র কয়েকদিন…
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেককে ঘিরে ২০১৭ সালের বিক্ষোভ-সংক্রান্ত মামলায় সম্পাদিত ভিডিও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের অভিযোগে সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর জেনিফার কার্কহফ মুইস্কেন্সের বিরুদ্ধে ছয় মাসের জন্য আইন পেশা থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির শৃঙ্খলাবিষয়ক কর্মকর্তারা এ সুপারিশ করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার প্রকাশিত ১০৫ পৃষ্ঠার এক সুপারিশপত্রে ডিসি বোর্ড অন প্রফেশনাল রেসপন্সিবিলিটি জানায়, মুইস্কেন্সের বিরুদ্ধে আগে প্রস্তাবিত তিন মাসের স্থগিতাদেশ যথেষ্ট নয়। বোর্ডের মতে, তার আচরণ ছিল গুরুতর, ইচ্ছাকৃত এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলমান। এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ডিসি আপিল আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ওই দিন ওয়াশিংটনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে কিছু অংশগ্রহণকারী দোকানপাটে ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় মামলাগুলোর প্রধান ফেডারেল প্রসিকিউটর ছিলেন জেনিফার কার্কহফ মুইস্কেন্স।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আদালতে উপস্থাপিত কয়েকটি ভিডিও থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই অংশগুলোতে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ থাকার এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। এসব অংশ বাদ যাওয়ায় সরকারপক্ষ আদালতে যুক্তি দেখাতে সক্ষম হয় যে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দাঙ্গায় অংশ নিয়েছিল।
ডিসি বোর্ডের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ অংশ গোপন করা এবং আগের অসদাচরণ আড়াল করার চেষ্টা ছিল একটি সচেতন ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ। বোর্ডের মতে, এটি শুধু পেশাগত দায়িত্ব লঙ্ঘন নয়, বরং বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তবে জেনিফার কার্কহফ মুইস্কেন্স তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত বছর তিনি দাবি করেন, উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে কোনো ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার বা ইচ্ছাকৃত অসদাচরণের প্রমাণ নেই। তিনি আরও জানান, এ শৃঙ্খলাজনিত তদন্তের কারণে তিনি উটাহ অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল প্রসিকিউটরের পদ ছেড়ে দিয়েছেন এবং আইন পেশা থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।
ট্রাম্পের অভিষেক-পরবর্তী ওই মামলাগুলোর মধ্যে ২০ জন অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করেছিলেন, ছয়জন খালাস পান এবং শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় প্রমাণ উপস্থাপনের নৈতিক মানদণ্ড ও প্রসিকিউটরদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বর্তমানে ডিসি আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au