মেলবোর্ন, ১৩ জুন- নিজেদের মাটিতে ফিরেছে ফুটবল বিশ্বকাপ, আর সেই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে ইতিহাস গড়েই অভিযান শুরু করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে প্রায় ৭১ হাজার দর্শকের উচ্ছ্বাসের মাঝে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে মার্কিনরা।
১৯৯৪ সালের পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ঘরের মাঠে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে নামা দলটি প্রথম ম্যাচেই দেখিয়েছে নিজেদের সামর্থ্যের ঝলক। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলে পরিচিতি পাওয়া ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন জোড়া গোল করেন। এছাড়া একটি গোল করেন জিওভান্নি রেইনা, আর একটি আসে প্যারাগুয়ের আত্মঘাতী গোল থেকে।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে চার গোল করল মার্কিনরা। শুধু তাই নয়, ১৯৩০ সালের পর প্রথম কোনো মার্কিন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে একাধিক গোল করার কীর্তি গড়েছেন বালোগুন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র সপ্তম মিনিটে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের তৈরি করা আক্রমণ থেকে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বালোগুন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধানের লিড। নতুন কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে দলটির আক্রমণভাগ ছিল গতিময় ও সৃজনশীল, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পুলিসিচকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হলে তার চোট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়। তবে পরে তিনি গ্যালারিতে থাকা পরিবারের সদস্যদের ইঙ্গিত দিয়ে জানান যে গুরুতর কোনো সমস্যা হয়নি। পুলিসিচ মাঠ ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা গতি হারালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে প্রাদো মরিসিও গোল করে প্যারাগুয়ের হয়ে ব্যবধান কমান। তবে শেষ দিকে দুর্দান্ত এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত করেন জিওভান্নি রেইনা। বক্সের ভেতরে চমৎকার টো-ফ্লিকে করা তার গোলটি ছিল বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত প্রথম গোল।
২৪ বছর বয়সী বালোগুনের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এই স্ট্রাইকার লন্ডনে বেড়ে উঠলেও ইংল্যান্ডের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্বকাপ অভিষেকেই জোড়া গোল করে তিনি মার্কিন দলের দীর্ঘদিনের স্ট্রাইকার সংকটের সমাধান হতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চার ম্যাচ মিলিয়ে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মাত্র তিনটি গোল করেছিল, সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই চার গোল করে নতুন যুগের ইঙ্গিত দিল পচেত্তিনোর দল। দাপুটে এই জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, শিরোপার স্বপ্ন দেখার মতো আত্মবিশ্বাসও অর্জন করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।