হায়দ্রাবাদে আটক সাত বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে সাত বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে…
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- বাংলাদেশের দিনাজপুরে অবস্থিত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ সমকামিতার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় দেশ-বিদেশে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।
সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, গত ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদ এবং ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের চার শিক্ষার্থীকে সমকামিতার অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ ছিল, দিনাজপুর শহরের হেভেন সিটি নামের একটি ছাত্রাবাসে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
এ ছাড়া ১৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মহাবলিপুর এলাকায় আরও দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু হাসানের স্বাক্ষরিত এক প্রশাসনিক আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে জেএমবিএফ জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং তা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ১৫ ধারার আওতায় ‘অনৈতিক কার্যকলাপ’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, ‘সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে আমরা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছি। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক বা যৌন পরিচয়কে কেন্দ্র করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ মৌলিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে। জেএমবিএফের প্রধান উপদেষ্টা রবার্ট সাইমন বলেন, ‘যখন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত জীবন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং যৌন পরিচয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তখন সেটি শিক্ষা ও মানবিকতার প্রতিষ্ঠান না হয়ে নিপীড়নের যন্ত্রে পরিণত হয়।’
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারিও একই ধরনের একটি ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও একজন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
বাংলাদেশে সমকামিতা সামাজিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ কারণে এলজিবিটিকিউ ব্যক্তিরা প্রায়ই সামাজিক বৈষম্য, হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। অন্যদিকে, দেশের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত হিজড়া জনগোষ্ঠী ২০১৩ সাল থেকে সরকারি স্বীকৃতি ভোগ করছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলো১তে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণও বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানবাধিকার মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au