প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাকে আটকে রাখে এবং দীর্ঘ সময় দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। পরে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি ভারত সফর বাতিল করে কলম্বো হয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোববার বিকেল পাঁচটার কিছু সময় পর ঢাকা থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে দিল্লিতে পৌঁছান জাহেদ উর রহমান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এরপর তারা একসঙ্গে ইমিগ্রেশন কাউন্টারের দিকে যান।
সেখানে শুরু হয় জটিলতা। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জাহেদ উর রহমানের পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা করতে থাকেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে নথিপত্র যাচাই চললেও কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার জানতে চান কোনো সমস্যা হয়েছে কি না। তবে ওই কর্মকর্তা তখনও কোনো উত্তর দেননি।
পরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জাহেদ উর রহমানের কাছে তার জন্মস্থান, পূর্বে ভারত সফরের ইতিহাস এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে জানতে চান। কিছুক্ষণ পর তিনি কাউন্টার ছেড়ে ভেতরে চলে যান। পরে ফিরে এসে জাহেদ উর রহমানের আঙুলের ছাপ ও আইরিস স্ক্যান সংগ্রহ করেন।
এরপর তাকে জানানো হয় যে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ইমিগ্রেশন এলাকার একটি সোফায় বসে থাকতে বলা হয় তাকে। কিন্তু কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে কিংবা কী কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে থাকলে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কয়েক দফা ফোনালাপের পর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ভারতের ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে জাহেদ উর রহমানের নাম ‘ওয়াচলিস্ট’ বা পর্যবেক্ষণ তালিকাভুক্ত হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এ অবস্থায় জাহেদ উর রহমান বিষয়টি ঢাকায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করেন। পরিস্থিতিকে অপমানজনক ও অস্বস্তিকর মনে করে তিনি শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান। তখন ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, তার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি চাইলে দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এরই মধ্যে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় তিনি আর ভারতে প্রবেশ করেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সময় দিল্লি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকায় বিভিন্ন দেশের যাত্রীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি যাত্রীও উপস্থিত ছিলেন এবং তারা ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী হন।
উল্লেখ্য, সোমবার থেকে দিল্লিতে শুরু হওয়া আইওআরএর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল জাহেদ উর রহমানের। তার সফর উপলক্ষে এর আগেই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে ভারত সরকারকে অবহিত করেছিল। তা সত্ত্বেও বিমানবন্দরে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।