শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী জুলাই মাস থেকেই বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু করবে সরকার। একই সঙ্গে সারা দেশে মিড-ডে মিল চালু এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তাদের শারীরিক, মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, কুইজ ও অন্যান্য পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
তিনি জানান, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সরকার বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কর্মসূচি আগামী জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সেশনজট কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন পাঠ্যবই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দক্ষ ও মানবসম্পদনির্ভর ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়তে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চলতি বাজেটে শিক্ষাখাতে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন মন্ত্রী। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আতিকুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুইজ, কাবিং ও বিতর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্যায়ে ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মেধা, নেতৃত্বগুণ ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।