ভারত-দক্ষিণ এশিয়ার বাড়তি চাহিদায় নতুন আশার আলো দেখছে অস্ট্রেলিয়ার খনি খাত
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- চীনের ইস্পাত শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার প্রভাব যখন বৈশ্বিক কাঁচামাল বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, তখন ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল ইস্পাত শিল্পকে…
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছর বয়সী কন্যাশিশুকে নদীতে ফেলে হত্যার পর নিজেও পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক বাবা। এ ঘটনায় স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন শিশুটির মা।
পুলিশ জানিয়েছে, ৪৭ বছর বয়সী মৌলিক ধন্ধুকিয়া গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া নিয়ে তার ছয় বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে যান। পরে দুপুরের কিছু আগে পারামাট্টা নদীতে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের আশায় পুলিশ ও জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা প্রায় সাত ঘণ্টা ব্যাপক অনুসন্ধান চালান। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার আগের সপ্তাহজুড়ে মৌলিক ধন্ধুকিয়া একাধিকবার নৌকা ভাড়া নিয়েছিলেন। এর মধ্যে একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধন্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন।
ঘটনাস্থলের কাছের একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মৌলিক ধন্ধুকিয়া প্রথমে তার মেয়েকে নৌকা থেকে নদীতে ফেলে দেন। এরপর নিজেও নদীতে ঝাঁপ দেন। জানা গেছে, বাবা ও মেয়ে কেউই সাঁতার জানতেন না।
পুলিশ নৌকা থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে। তবে কী কারণে তিনি এমন মর্মান্তিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মৌলিক ধন্ধুকিয়া দীর্ঘদিনের ঘাড়ের ব্যথার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি জানান, ২০০৫ সালে জিমে ভারোত্তোলনের সময় একটি আঘাত পাওয়ার পর থেকে তিনি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ঘাড়ের ব্যথায় ভুগছিলেন।
সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, জিমে ওজন নিয়ে ব্যায়াম করার সময় সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এমন আঘাত থেকে সুস্থ হতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
তিনি জানান, এক সপ্তাহ বিরতির পর যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া ব্যায়াম করায় তার ঘাড়ের তৃতীয় ও চতুর্থ কশেরুকার মাঝের ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে এমআরআই পরীক্ষায় তার ঘাড়ের মেরুদণ্ডে স্নায়ুর ওপর চাপ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
মৌলিক ধন্ধুকিয়া আরও লিখেছিলেন, জীবনে তিনি যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশই এই দীর্ঘস্থায়ী ঘাড়ের ব্যথার কারণে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
জানা গেছে, তিনি ২০২২ সাল থেকে সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া এক সময় তার কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতিও ছিল। তবে ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঘাড়ের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি সেখানে বসবাস করেননি।
এদিকে পরিবারের বন্ধুদের উদ্যোগে নিহতদের স্ত্রী ও শিশুটির মা প্রীতিবেন ধন্ধুকিয়ার সহায়তায় একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তহবিল সংগ্রহের আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুই মানুষ, স্বামী ও কন্যাকে হারিয়েছেন। যে বাড়ি একসময় ভালোবাসা ও হাসিতে ভরপুর ছিল, সেটি এখন নীরব। প্রতিদিন পরিবারকে ঘিরেই যার জীবন আবর্তিত হতো, সেই নারী আজ সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন।
সংগৃহীত অর্থ স্মরণসভা, ধর্মীয় শেষকৃত্য, নিকটাত্মীয়দের যাতায়াত এবং আবাসন ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, মৌলিক ধন্ধুকিয়ার বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ বা সহিংসতা-সংক্রান্ত আদেশ ছিল না এবং তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরেও ছিলেন না।
পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে পরিবার ও সমাজের জন্য সবদিক থেকে এক ‘চরম ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, একজন মা যখন জানতে পারেন যে তার স্বামী এবং সন্তান দুজনকেই হারিয়েছেন, তখন তা যেকোনো মায়ের জীবনকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কোনো সম্ভাবনাই বাদ দেওয়া হবে না।
সূত্র: ডেইলি মেইল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au