মেলবোর্ন, ১৬ জুন- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বাড়ি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাশিয়ার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংঘটিত ওই হামলার পেছনে রুশপন্থী একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে হামলাকারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর লন্ডনে স্টারমারের আগে ব্যবহৃত একটি টয়োটা গাড়িতে আগুন দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব হামলার ঘটনায় ২২ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় নাগরিক রোমান লাভরিনোভিচ এবং ২৭ বছর বয়সী ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া রোমানীয় নাগরিক স্টানিস্লাভ কারপিউককে দোষী সাব্যস্ত করেছে লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ইএল মানি’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি টেলিগ্রামের মাধ্যমে রোমান লাভরিনোভিচের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথমে পোস্টার লাগানো ও দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার মতো কাজ দিলেও পরে তাকে অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে ফেলা হয়। বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রোমান লাভরিনোভিচ সম্ভবত জানতেন না যে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সম্পত্তিকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘ইএল’ নামে পরিচিত ব্যক্তি সম্ভবত ২৩ বছর বয়সী রুশ কূটনীতিক ইয়েভজেনি লিউকশিন। তিনি রুশ ভাষায় যোগাযোগ করতেন এবং বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে রাশিয়া ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষে প্রচারণা চালাতেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনবিরোধী বক্তব্য ও সহিংস কর্মকাণ্ডে উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিবিসি জানিয়েছে, রুশপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে বিভ্রান্তি, ভীতি ও সামাজিক বিভাজন তৈরির চেষ্টা করেছে। তারা ভুয়া উগ্র-ডানপন্থী এবং মুসলিমবিরোধী প্রচারণাও পরিচালনা করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর স্টারমারকে লক্ষ্য করে চালানো অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব প্রচারণা পরে উগ্র-ডানপন্থী কিছু কর্মী ও অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, রাশিয়া বা রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ভিত্তিহীন। রাশিয়া যুক্তরাজ্যের জন্য কোনো হুমকি নয় এবং ব্রিটেনের বিরুদ্ধে তাদের কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্যও নেই।
বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ইয়েভজেনি লিউকশিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তার সঙ্গে যোগাযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট একটি বিতর্কিত টেলিগ্রাম চ্যানেল অদৃশ্য হয়ে যায় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
ঘটনাটি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা মহলে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি ইউরোপে রাশিয়ার তথাকথিত ‘হাইব্রিড অপারেশন’ বা গোপন প্রভাব বিস্তারের কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সুত্রঃ বিবিসি