ভারত-দক্ষিণ এশিয়ার বাড়তি চাহিদায় নতুন আশার আলো দেখছে অস্ট্রেলিয়ার খনি খাত
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- চীনের ইস্পাত শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার প্রভাব যখন বৈশ্বিক কাঁচামাল বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, তখন ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল ইস্পাত শিল্পকে…
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানীর (৭) বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নন্দিনী রানী ওই গ্রামের কৃষক নলিনী বর্মণের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় নন্দিনী। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সারারাত অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাখেতে কয়েকটি গাছ ভাঙা দেখতে পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে খেতের ভেতরে একটি গর্ত দেখতে পেয়ে সেখানে অনুসন্ধান চালানো হলে বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হত্যার আগে কোনো ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে একই এলাকার বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৫) ও তার বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণকে (৫৫) স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টাখেতে মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া গেল নন্দিনীর মরদেহ। ছবিঃ সংগৃহীত
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে থানায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার এবং বিজিবির অধিনায়ক উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
নিহত শিশুর বাবা নলিনী বর্মণ বলেন, “আমার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। আমি একজন সাধারণ কৃষক। আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
শিশুটির মা সাবিত্রী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “প্রতিদিনের মতো সেদিনও আমার মেয়ে বিকেলে খেলতে বের হয়েছিল। কে বা কারা তাকে নিয়ে গেছে, আমরা জানি না। আমার মেয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।”
মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au