বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতাকে কেন ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছে ইরান?

  • 4:06 pm - June 17, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৭ বার
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ইরান। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৭ জুন- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন সমঝোতা স্মারককে ঘিরে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। একদিকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই চুক্তিকে প্রতিরোধের সাফল্য এবং কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে কট্টরপন্থি গোষ্ঠী এবং সরকারবিরোধী অংশের অনেকেই এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখছে। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট, নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে দাঁড়িয়ে তেহরানের জন্য এই চুক্তিকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ইরানের নেতৃত্বের দাবি, এই সমঝোতা কোনো ধরনের আত্মসমর্পণ বা পিছু হটার ফল নয়। বরং দীর্ঘদিনের চাপ, প্রতিরোধ এবং সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের ফল হিসেবেই ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করা হয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতি আরও চাপে পড়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, জ্বালানি রপ্তানিতে বাধা, মূল্যস্ফীতি এবং বিনিয়োগের ঘাটতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। ফলে চুক্তিকে বিজয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সরকারের জন্য সহজ কাজ নয়।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ চুক্তিটিকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যে লক্ষ্য নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করেছিল, তার বেশিরভাগই অর্জন করতে পারেনি।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও। তিনি বলেছেন, এই সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের অর্থনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এমনকি তিনি এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি নতুন বাস্তবতা তৈরির সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো বাড়তে যাচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্লেষকদের মতে, গালিবাফের প্রকাশ্য সমর্থন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তাকে সাধারণত মধ্যপন্থি শিবিরের রাজনীতিক হিসেবে দেখা হয় না। বরং নিরাপত্তা ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তার সমর্থন ইঙ্গিত দেয় যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসসহ রাষ্ট্রের শক্তিশালী অংশের মধ্যেও এই চুক্তির প্রতি সমর্থন রয়েছে।

ইরানের সরকারি বর্ণনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই যুক্তিকে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তেহরানের মতে, তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেনি, ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি, সামরিক হামলার মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে পারেনি এবং হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি।

সরকারি মহলের দাবি, ইরান এখনো আলোচনার টেবিলে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। শুধু তাই নয়, লেবাননের প্রশ্নও আলোচনার কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টিও এখন আলোচনার অংশ।

তবে এই ব্যাখ্যা সবাই গ্রহণ করছে না। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির একজন কট্টরপন্থি নেতা খসড়া চুক্তিকে সরাসরি সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সমালোচনাটি এসেছে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতর থেকেই।

গত কয়েক মাস ধরে ইরানের কট্টরপন্থি রাজনীতিক, রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ধারাবাহিকভাবে বলে আসছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না। তাদের অভিযোগ ছিল, যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব সামরিক প্রস্তুতি আড়াল করার জন্য ব্যবহার করেছে।

তবে এখন সেই সমালোচনামূলক কণ্ঠগুলো তুলনামূলকভাবে নীরব। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্তটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন পেয়েছে। যদিও এর অর্থ এই নয় যে পুরো রাজনৈতিক কাঠামোতে এ নিয়ে পূর্ণ ঐক্য তৈরি হয়েছে।

ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় বাস্তবতা এখন অর্থনীতি। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে জনগণের বড় একটি অংশের কাছে এখন প্রশ্নটি রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক।

অনেক ইরানি নাগরিক জানতে চাইছেন, এই চুক্তি তাদের জীবনে কী পরিবর্তন আনবে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমবে কি না, কর্মসংস্থান বাড়বে কি না এবং নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা কমবে কি না, সেটাই এখন তাদের প্রধান উদ্বেগ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি বলেছেন, ইরান সরাসরি মার্কিন অর্থ পাবে না। তবে যদি তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, তাহলে দেশটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর ফলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন সম্ভব হতে পারে।

এই কারণেই তেহরান চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা হিসেবে নয়, বরং বিনিয়োগ, পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তবে সামনে এখনো বড় বড় জটিল প্রশ্ন রয়ে গেছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, ইরানকে কত মাত্রা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, নিষেধাজ্ঞা কতটা শিথিল হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে চুক্তির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে ইসরায়েলের অবস্থানও। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেছেন, যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন তাদের সেনাবাহিনী সেখানে অবস্থান করবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির ঠিক আগে বৈরুতে হামলা চালানো নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।

এই অবস্থাকে তেহরান নিজেদের জন্য রাজনৈতিক সুবিধা হিসেবে দেখছে। কারণ ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে দৃশ্যমান মতপার্থক্যকে তারা নিজেদের কূটনৈতিক চাপের ফল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারছে। তবে একই সঙ্গে এটি চুক্তির জন্য ঝুঁকিও তৈরি করছে। যদি ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানের ওপরও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানোর চাপ বাড়তে পারে।

বিবিসি পার্সিয়ানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত জনমতের প্রতিক্রিয়া দেখলে বোঝা যায়, সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এ চুক্তি নিয়ে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য স্বস্তির পথ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকেই সন্দিহান যে চুক্তি আদৌ দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না।

একজন নাগরিক বলেছেন, তিনি নতুন করে ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিলেন। চুক্তির খবর তাকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও তিনি এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত নন। অন্যদিকে সরকারবিরোধী এক ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিক পরিবর্তন না আনে, তাহলে এত সংঘাত ও যুদ্ধের মূল্য কী ছিল।

আবার অনেকেই মনে করছেন, অন্তত কয়েক মাসের জন্য হলেও এটি দেশকে যুদ্ধের আশঙ্কা থেকে দূরে রাখবে এবং মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেবে।

সব মিলিয়ে ইরানের নেতৃত্ব চুক্তিটিকে বিজয় হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, কারণ তাদের কাছে এটি শুধু একটি কূটনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং রাজনৈতিক বৈধতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখার একটি কৌশলগত সুযোগ। তবে শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি সত্যিই বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে একটাই বিষয়ের ওপর। যুদ্ধের আশঙ্কা কমে কি না, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয় কি না, অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসে কি না এবং সাধারণ মানুষের জীবন কতটা বদলায়, সেটিই হবে এই সমঝোতার প্রকৃত পরীক্ষার মাপকাঠি।

সূত্রঃ বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

গোলের পর কেন কেঁদেছেন মেসি

মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ম্যাচের তখন ১৭ মিনিট। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মেসি নেন জোরালো শট এবং ফল—গোল। এবারের বিশ্বকাপে মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রথম গোল।…

শিশু সন্তান নিয়ে শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে দম্পতি

মেলবোর্ন, ১৭ জুন- কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় টানা তিন দিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এক দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তান। একদিকে কাঁটাতারের…

ছাড়পত্র পেয়েও কেন দিল্লি থেকে ফিরে গেলেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে থাকার পর ভারতে…

হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার কাতারে মেসি

মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে…

ইরান চুক্তির খবরে উদ্বিগ্ন ইসরায়েল, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর

মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে…

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির খবরে ইসরায়েল থেকে জ্বালানি বিমান সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মেলবোর্ন, ১৭ জুন- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তির অগ্রগতির খবরের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন থেকে মার্কিন সামরিক জ্বালানি…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au